ভারতের রাজস্থানের রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা হঠাৎই পরিণত হলো অদ্ভুত এক ‘যানজটে’। সাফারি ট্র্যাকের মাঝখানে শুয়ে দুপুরের ঘুমে মগ্ন ছিল একটি বাঘ। আর তাকে বিরক্ত না করে প্রায় ৩০টি পর্যটকবাহী জিপ অপেক্ষা করছিল পেছনে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বিদেশি পর্যটক এলেনা রণথম্ভোর ভ্রমণের সময় ঘটনাটি ভিডিও করেন। পরে সেটি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ধুলোময় কাঁচা পথের মাঝখানে নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে বাঘটি। পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করছে একের পর এক সাফারি জিপ। পর্যটকেরা দূরত্ব বজায় রেখে প্রাণীটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন।

এলেনার ভাষ্য অনুযায়ী, বাঘটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি। এটি ছিল রণথম্ভোরে তার দেখা তৃতীয় বাঘ। চারটি সাফারিতে তিনটি বাঘ দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সাফারিতে বাঘ দেখার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বাঘটি বেশ কিছুক্ষণ পথের ওপর বিশ্রাম নেওয়ার পর উঠে দাঁড়ায়। এরপর শরীর টানটান করে কিছুক্ষণ নড়াচড়া করে ধীরে ধীরে জঙ্গলের দিকে চলে যায়। পর্যটকদের উপস্থিতি যেন তার চলার পথে কোনো প্রভাবই ফেলেনি।

ঘটনাটিকে মজা করে এলেনা ‘বাঘের যানজট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার প্রকাশিত ভিডিওটি ৬ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও নানা রসিক মন্তব্য করেছেন।

রণথম্ভোরে কেন এমন দৃশ্য দেখা যায়?

রাজস্থানের রণথম্ভোর বাঘ দেখার জন্য পরিচিত একটি বন্যপ্রাণী পর্যটনকেন্দ্র। এখানে সাফারির সময় বন্যপ্রাণীর চলাচলের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে কখনো পর্যটকদের সামনে বাঘ আসে, আবার কখনো বন্যপ্রাণীর চলাচলের কারণে সাফারি যানবাহনকেও অপেক্ষা করতে হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রাণীকে বিরক্ত না করে দূরত্ব বজায় রাখা বন্যপ্রাণী পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রণথম্ভোরের এই ঘটনাতেও পর্যটকেরা অপেক্ষা করেছেন, পরে বাঘটি নিজে থেকেই পথ ছেড়ে জঙ্গলে চলে যায়।