রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের গভীরতম হ্রদ বৈকালের বরফজমাট বুক চিরে যাওয়ার সময় একটি পর্যটকবাহী বাস পানিতে তলিয়ে গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাতজন চীনা পর্যটক এবং বাসের চালক নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক গভর্নর ইগর কোবজেভ শুক্রবার তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, বাসটি বরফের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ স্তর ভেঙে নিচে পড়ে যায়। বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে একজন পর্যটক অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও বাকিদের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এই বৈকাল হ্রদ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে শীতকালে হ্রদের পানি জমে স্বচ্ছ বরফে পরিণত হলে পর্যটকরা এর ওপর দিয়ে স্কেটিং, সাইক্লিং এবং গাড়ি চালিয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় করেন।
তদন্ত ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট ইরকুটস্ক অঞ্চলের প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এবং ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টির ফলে এই অঞ্চলে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিপন্ন প্রাকৃতিক বিস্ময় ‘সাইবেরিয়ার নীল চোখ’ খ্যাত বৈকাল হ্রদ বিশ্বের মোট তরল সুপেয় পানির ২০ শতাংশ ধারণ করে। তবে ডব্লিউডব্লিউএফ (WWF)-এর মতে, হ্রদটি বর্তমানে শিল্প দূষণ, খনিজ আহরণ এবং অবৈধ শিকারের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। ২০১৯ সালে নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত কাগজকল থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক হ্রদের পানিতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।