দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সচল হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম। কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর দিল্লিতে পুনরায় ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন। এতে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও পারস্পরিক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার আশা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে ভারতের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। নতুন করে দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের তিন দিনের মাথায় এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অবনতি ঘটে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ঢাকা শহরে দুটি পত্রিকা কার্যালয় ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই সময়ে চট্টগ্রাম এ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ হয় এবং মিশনে ঢিল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম ২১ ডিসেম্বর থেকে স্থগিত করা হয়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশও নয়াদিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

এরপর রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বিবৃতিতে তারেক রহমান কে অভিনন্দন জানান। পরে দুজনের মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনও হয়, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ব্যস্ততার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

এদিকে সিলেট এ কর্মরত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস আগেই জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে। তার ওই মন্তব্যের একদিন পরই দিল্লিতে বাংলাদেশের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালু হলো।