পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কিছু পাহাড় কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস, ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও পরিচিত। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ পাহাড়কে দেখেছে ঈশ্বরের কাছাকাছি পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে। কোথাও পাহাড় দেবতার আবাস, কোথাও আবার ঐশী বার্তা প্রাপ্তির স্থান। বিশ্বের এমনই পাঁচটি সবচেয়ে পবিত্র পর্বত ও তাদের পেছনের গল্প তুলে ধরা হলো।
মাউন্ট কৈলাস, তিব্বত (চীন)
বিশ্বের অন্যতম পবিত্র পর্বত মাউন্ট কৈলাসকে আধ্যাত্মিক জগতের কেন্দ্র বলা হয়। হিন্দু ধর্মে এটি দেবাদিদেব শিব ও দেবী পার্বতীর আবাস হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। বৌদ্ধদের কাছে এটি মেরু পর্বতের প্রতীক, জৈন ধর্মাবলম্বীদের মতে এখানেই প্রথম তীর্থংকর ঋষভদেব মোক্ষ লাভ করেন। একবার কৈলাস পরিক্রমা করলে জীবনের পাপ মোচন হয়, এমন বিশ্বাস বহু যুগ ধরে প্রচলিত।
অ্যাডামস পিক বা শ্রীপাদা, শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কার মধ্যভাগে অবস্থিত এই পাহাড় বহু ধর্মের মিলনস্থল। চূড়ায় থাকা পায়ের ছাপ আকৃতির শিলাকে বৌদ্ধরা বুদ্ধের পদচিহ্ন, হিন্দুরা শিবের পদচিহ্ন এবং মুসলিম ও খ্রিস্টানরা আদমের প্রথম পদচিহ্ন বলে বিশ্বাস করেন। এ কারণেই এটি বিশ্বের বিরল বহুধর্মীয় তীর্থস্থান।
মাউন্ট ফুজি, জাপান
জাপানের সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে পরিচিত পাহাড় মাউন্ট ফুজি শিন্তো ও বৌদ্ধ ধর্মে পবিত্র। শিন্তো বিশ্বাসে এটি দেবী কোণোহানাসাকুয়া-হিমের আবাস। বহু মানুষ আজও পাহাড়ে আরোহণকে ধর্মীয় সাধনা হিসেবে দেখেন।
মাউন্ট সিনাই, মিসর
আব্রাহামিক ধর্মগুলোর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাউন্ট সিনাই বা জাবাল মুসা। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই নবী মুসা আল্লাহর কাছ থেকে দশ নির্দেশ লাভ করেন। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সেন্ট ক্যাথরিনস মনাস্ট্রি খ্রিস্টান ইতিহাসের এক মূল্যবান নিদর্শন।
মাউন্ট অলিম্পাস, গ্রিস
গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী অলিম্পাস ছিল দেবরাজ জিউসসহ বারো দেবতার আবাস। মানবজগত ও দেবজগতের সীমারেখা হিসেবে এই পাহাড়কে দেখা হতো, যা গ্রিক সভ্যতার কল্পনা ও বিশ্বাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।