পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে নেপালজুড়ে। পর্যটননগরী পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমাণ্ডুগামী একটি যাত্রীবাহী বাস গভীর গিরিখাতে পড়ে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু যাত্রী, যাদের কয়েকজন বিদেশি নাগরিক।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ পর্যটক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ও চীনের নাগরিকও আছেন।

সোমবার ভোররাতে বাসটি ধাদিং জেলার বেহিঘাট এলাকার পাহাড়ি সড়ক থেকে প্রায় ২০০ মিটার গভীর গিরিখাতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলটি রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ৪৪ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, অন্ধকার এবং সংকীর্ণ রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়। আহতদের দ্রুত কাঠমাণ্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন।

প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। বাসটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

পর্বতময় দেশ নেপালে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন নয়। সরু পাহাড়ি রাস্তা, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, দুর্বল অবকাঠামো এবং দীর্ঘ যাত্রাপথের কারণে সেখানে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে পাহাড়ি মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।