বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে একটি বাস্তবতা। শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থাই টেকসই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের প্রধান ভিত্তি। উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর দেশগুলো সাধারণত প্রযুক্তি, গবেষণা, উৎপাদনশীলতা ও আয়ে এগিয়ে থাকে। উন্নত দেশগুলোর শিক্ষার মান তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা। সংস্থাটির সাম্প্রতিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ডিগ্রি অর্জনের হার বিবেচনায় ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

কানাডা

উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ডিগ্রি রয়েছে। প্রদেশভিত্তিকভাবে পরিচালিত ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা ব্যবস্থা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। কারিগরি ও প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষায় সাফল্য কানাডাকে এগিয়ে রেখেছে। স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবিজ্ঞানে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বমানে স্বীকৃত।

আয়ারল্যান্ড

৫৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। গত কয়েক দশকে উচ্চশিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে পাঠক্রম সামঞ্জস্য আয়ারল্যান্ডকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপ দিয়েছে। প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে বহুজাতিক কোম্পানি আকর্ষণে শিক্ষিত জনশক্তি বড় ভূমিকা রেখেছে।

জাপান

৫৭ শতাংশ তৃতীয় স্তরের শিক্ষাগত অর্জন জাপানের দীর্ঘদিনের শিক্ষা সংস্কৃতির প্রতিফলন। গণিত, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে শক্ত অবস্থান দেশটির উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতকে সমর্থন জুগিয়েছে। রোবোটিক্স ও অটোমোবাইল গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান উল্লেখযোগ্য।

দক্ষিণ কোরিয়া

৫৬ শতাংশ উচ্চশিক্ষা অর্জনের হার নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিক্ষাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েছে। তরুণদের মধ্যে কলেজে ভর্তি এখন সাধারণ চিত্র। ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশটির বৈশ্বিক নেতৃত্বের পেছনে শিক্ষিত কর্মশক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে।

যুক্তরাজ্য

২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের উচ্চশিক্ষা ডিগ্রি রয়েছে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডজুড়ে প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য পরিচিত যুক্তরাজ্য। গবেষণা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খাত দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

লুক্সেমবার্গ

ছোট জনসংখ্যা হলেও ৫৪ শতাংশ উচ্চশিক্ষা অর্জনের হার দেশটিকে শীর্ষ তালিকায় রেখেছে। বহুভাষিক ও আন্তর্জাতিক কর্মশক্তি এবং ব্যাংকিং ও সেবা খাতে দক্ষ জনবল লুক্সেমবার্গের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।

অস্ট্রেলিয়া

৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের তৃতীয় স্তরের ডিগ্রি রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা খাত অন্যতম রপ্তানি সেবা খাত হিসেবে বিবেচিত। চিকিৎসা, পরিবেশ ও খনিশিল্প প্রকৌশলে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চমান বজায় রেখেছে।

সুইডেন

৫২ শতাংশ উচ্চশিক্ষা অর্জনের পেছনে রয়েছে সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও সমান সুযোগের নীতি। স্থানীয় ও ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি না থাকায় অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জীবনবিজ্ঞানে গবেষণায় সুইডেন অগ্রগামী।

যুক্তরাষ্ট্র

৫১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি রয়েছে। বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিস্তৃত শিক্ষা কাঠামো দেশটিকে বৈচিত্র্যময় সুযোগ দিয়েছে।

ইসরায়েল

৫১ শতাংশ তৃতীয় স্তরের শিক্ষাগত অর্জন নিয়ে ইসরায়েল জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম উদাহরণ। সাইবার নিরাপত্তা, বায়োটেকনোলজি ও কৃষি প্রযুক্তিতে গবেষণা দেশটিকে উদ্ভাবনে এগিয়ে রেখেছে। উচ্চ দক্ষ প্রকৌশলী ও গবেষকসংখ্যা দেশটির অর্থনীতিকে সমর্থন করছে।