বিশ্বের বিলাসবহুল নগরীগুলোর তালিকায় বরাবরই শীর্ষে থাকা দুবাই এবার আরেকটি অভিনব উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায়। মরুভূমির বুকে আধুনিকতার প্রতীক এই শহরে তৈরি হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘সোনার রাস্তা’। স্বর্ণনির্ভর অবকাঠামোর এমন ব্যতিক্রমী ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুবাই নিজেকে বৈশ্বিক স্বর্ণ বাণিজ্য ও পর্যটনের নতুন আইকন হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
আমিরাতের নতুন গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় এই প্রকল্পের ঘোষণা দেয় ইথ্রা দুবাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে এই ‘গোল্ড স্ট্রিট’ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের মধ্যেই নির্মিত হবে এই সোনার রাস্তা। এটি হবে বিশ্বের প্রথম অবকাঠামো, যেখানে সোনা কেবল অলংকার বা বিনিয়োগ নয়, বরং নগর নকশার অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। এই উদ্যোগ দুবাইয়ের ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণ ব্যবসাকে আধুনিক পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা রপ্তানি করেছে। এ সময়ে দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্ক। ভৌত সোনা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে আমিরাত ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য।
‘স্বর্ণের নতুন বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে সোনা ও গহনা সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম এক ছাদের নিচে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখানে খুচরা বিক্রি, সোনার মুদ্রা, পাইকারি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে এই ডিস্ট্রিক্টে সোনা ও গহনার পাশাপাশি সুগন্ধি, প্রসাধনী ও লাইফস্টাইল পণ্যের এক হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা কার্যক্রম চালাবে।
ইতোমধ্যে জাওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইজান ও তানিশক জুয়েলারির মতো শীর্ষ ব্র্যান্ড সেখানে ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করেছে। জয়ালুক্কাসও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড় ২৪ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
ইথ্রা দুবাইয়ের সিইও ইসাম গালাদারি বলেন, দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট ঐতিহ্য, পরিসর ও সম্ভাবনাকে এক জায়গায় এনেছে। অন্যদিকে দুবাই অর্থনীতি ও পর্যটন বিভাগের অধীন ডিএফআরই-এর সিইও আহমেদ আল খাজা বলেন, সোনা দুবাইয়ের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঐতিহ্যের পাশাপাশি ভবিষ্যৎমুখী সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।