মেক্সিকোজুড়ে মাদক কার্টেল ঘিরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় জনপ্রিয় পর্যটন শহরগুলোতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বহু বিদেশি পর্যটক হোটেলের ভেতরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে।
নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস নামে পরিচিত শক্তিশালী মাদক সম্রাট এল মেনচোর মৃত্যুর পরই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ এবং সহিংস প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এর প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় সমুদ্রতীরবর্তী শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তাসহ আশপাশের এলাকায়।
মার্কিন নাগরিক ইউজিন মার্চেঙ্কো ও তাঁর স্ত্রী ছুটি কাটাতে এসে হঠাৎ এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNNকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে প্রথমে কিছু অস্বাভাবিক মনে হয়নি। কিছু সময় পর দূর থেকে গুলির শব্দ ভেসে আসে এবং দ্রুত বোঝা যায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।
তিনি জানান, টেলিভিশন চালু করতেই দেখা যায় শহরের বিভিন্ন অংশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আকাশে নিরাপত্তা বাহিনীর হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে। পুরো পরিবেশ যুদ্ধক্ষেত্রের মতো মনে হচ্ছিল।
মার্চেঙ্কো দম্পতি যে হোটেলে অবস্থান করছেন, সেখানে কর্তৃপক্ষ সবাইকে কক্ষে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুল, ছাদ কিংবা বারান্দায় যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খাবার সরাসরি কক্ষের দরজায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে আরও অনেক পর্যটককে হোটেলের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের বড় শহর গুয়াদালাহারার বিমানবন্দরে আতঙ্কিত যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেক ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ায় ভ্রমণসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত যাত্রী।
মেক্সিকোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি হঠাৎ অবনতির পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা ও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, কার্টেল সদস্যদের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ সদস্য এবং একজন নিরাপত্তারক্ষীসহ অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এদিকে বিদেশি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যটননির্ভর শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।