পবিত্র রমজানে পর্যটকের ভিড় কমে গেলেও বিকেলের পর সমুদ্রপাড়ে জমে উঠছে ভিন্ন এক আবহ। নীরবতার বদলে সেখানে তৈরি হচ্ছে স্বজনদের সঙ্গে ইফতারের অনাড়ম্বর মিলনমেলা, যা ধীরে ধীরে মৌসুমি এক সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।
দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সারা বছরই দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীতে মুখর থাকে। কিন্তু রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে চেনা চিত্র বদলে গেছে। হোটেল, মোটেল, সৈকতসংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও বিনোদনসেবা চলছে অনেকটাই নিরিবিলি পরিবেশে।
তবে বিকেল গড়াতেই দৃশ্য পাল্টে যায়। শহরসংলগ্ন অংশ থেকে শুরু করে হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে জড়ো হন। কেউ ঘর থেকে খাবার নিয়ে আসেন, কেউ আশপাশের দোকান থেকে হালকা খাবার সংগ্রহ করেন।
সূর্য যখন ধীরে ধীরে বঙ্গোপসাগর এর দিগন্তে নেমে যায়, তখন সমুদ্রের শীতল বাতাসে সবাই একসঙ্গে ইফতার করেন। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ এই আয়োজনকে আরও প্রশান্ত করে তোলে।
স্থানীয় তরুণদের ভাষ্য, রমজানে পর্যটক কম থাকায় সৈকত অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। গরমের দিনে খোলা আকাশের নিচে সমুদ্রের হাওয়া গায়ে মেখে ইফতার করার অনুভূতি আলাদা। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকেলে এখানে মানুষের উপস্থিতিও বাড়ছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, রমজান এলেই এ অঞ্চলে দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমে যায়, যা বহু বছরের পরিচিত ধারা। তবে স্থানীয় মানুষের এই সমাগম সৈকতকে একেবারে নিস্তব্ধ হতে দেয় না। বরং সন্ধ্যার আগে আগে তৈরি হয় অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য।