প্রকৃতির বৈচিত্র্যের শেষ নেই। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণার মতো বীজ থেকে শুরু করে বিশালাকার ফল— সবই বিবর্তনের একেকটি বিস্ময়। তবে যখন বিশ্বের বৃহত্তম বীজের কথা আসে, তখন সবার আগে আসে 'কোকো দে মের' এর নাম। সেশেলস দ্বীপপুঞ্জের প্রসূত এই বীজ তার অনন্য আকৃতি এবং বিশাল আকারের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
উৎপত্তিস্থল ও পরিচয়
কোকো দে মের (বৈজ্ঞানিক নাম: Lodoicea maldivica) এক প্রজাতির পাম গাছ, যা কেবল ভারত মহাসাগরের সেশেলস দ্বীপপুঞ্জের প্রসলিন এবং কিউরিউস দ্বীপে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। গাছগুলো ২৫ থেকে ৩৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে এর আসল আকর্ষণ লুকিয়ে আছে এর বিশাল আকৃতির ফলের ভেতর।
বিশালাকার বীজ ও গঠন
কোকো দে মেরের বীজটি উদ্ভিদ জগতের ইতিহাসে বৃহত্তম এবং ভারী বীজ হিসেবে স্বীকৃত। একটি পূর্ণাঙ্গ বীজের ওজন ওজন সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
এর এটি লম্বায় প্রায় ১২ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। এই বীজের আকৃতি অনেকটা মানুষের নিতম্বের মতো, যে কারণে একে স্থানীয়ভাবে 'ডাবল কোকোনাটও' বলা হয়ে থাকে।
রহস্যময় ইতিহাস
প্রাচীনকালে যখন এসব বীজ সমুদ্রের পানিতে ভেসে মালদ্বীপ বা ভারতের উপকূলে পৌঁছাত, তখন মানুষ ভাবত এগুলো সমুদ্রের তলদেশে কোনো এক অতিপ্রাকৃত গাছে ধরে। এ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে 'কোকো দে মের', যার ফরাসি অর্থ হলো 'সমুদ্রের নারিকেল'।
১৭৬৮ সালের আগ পর্যন্ত মানুষ জানত না যে এটি আসলে সেশেলসের গহীন জঙ্গলে জন্মানো একটি স্থলজ উদ্ভিদের ফল।
জীবনচক্র ও স্থায়িত্ব
এই গাছটির বৃদ্ধি অত্যন্ত ধীরগতিতে হয়। একটি বীজ থেকে চারা গজাতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। একটি কোকো দে মের ফল সম্পূর্ণ পাকতে এবং গাছ থেকে ঝরতে প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর সময় নেয়। এই দীর্ঘ অপেক্ষার কারণেই এটি অত্যন্ত বিরল। এছাড়া একটি গাছ কয়েকশ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
সংরক্ষণ ও গুরুত্ব
বিশ্বের পরিবেশবাদী নেটওয়ার্ক আইইউসিএন উদ্ভিদটিকে 'বিপন্ন' প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। চোরা শিকার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে।
বর্তমানে সেশেলস সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বীজের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রতিটি বীজের গায়ে একটি বিশেষ লাইসেন্স নম্বর খোদাই করা থাকে।