খাগড়াছড়ি জেলার একমাত্র বিনোদনভিত্তিক পার্কে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীরা। শিশুদের জন্য থাকা ট্রেন, কিডস জোন এবং দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় ধীরে ধীরে আকর্ষণ হারাচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক।
পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থাপিত ‘খাগড়াছড়ি এক্সপ্রেস’ নামের ছোট ট্রেন ও কিডস জোন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। পাশাপাশি পার্কের অন্যতম আকর্ষণ ফোয়ারাটিও প্রায় দুই বছর ধরে বিকল।
৪০ টাকা টিকিট কেটে পার্কে প্রবেশ করলেও ঝুলন্ত ব্রিজ ছাড়া শিশুদের জন্য তেমন কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় পার্কটির সৌন্দর্য ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কমছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কিডস জোনের ফটকে তালা ঝুলছে। ট্রেনের লাইনের ওপর আবর্জনা জমে আছে, কোথাও কোথাও লাইন ঢেকে গেছে মাটির নিচে। ট্রেনের যন্ত্রাংশ খুলে পড়ে আছে, লাইনের ওপর ধসে পড়েছে দেয়াল। ফোয়ারার চারপাশে মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
পার্কের উপ-সহকারী অফিসার কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, পার্কের প্রধান আকর্ষণ শিশুদের ট্রেন, কিডস জোন ও ফোয়ারা দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। বিষয়টি জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজন চাকমা ও পলি চাকমা সন্তানদের নিয়ে পার্কে এসে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, খাগড়াছড়িতে শিশু পার্ক নেই বললেই চলে। এই পার্কে যেগুলো ছিল, সেগুলোও নষ্ট। টিকিট কেটে এসে দেখার মতো কিছু পাওয়া যায় না।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আরিয়ান ও মাসুদ পারভেজ জানান, ঝুলন্ত ব্রিজ দেখার আশায় পার্কে এসেছিলেন। কিন্তু শিশুদের জন্য কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় হতাশ হতে হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের পার্ক আহ্বায়ক জয়া ত্রিপুরা জানান, পার্কের আকর্ষণ বাড়াতে কটেজ নির্মাণসহ সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এদিকে জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন বলেন, খুব দ্রুত শিশু পার্ক উন্নয়নে একটি প্রকল্প নেওয়া হবে।