ঈদুল ফিতর মানেই পরিবারের টানে বাড়ি ফেরা। আর এই যাত্রায় নিরাপদ ও স্বস্তির ভরসা হিসেবে ট্রেনই থাকে অনেকের প্রথম পছন্দ। কিন্তু উৎসব ঘনিয়ে এলে ট্রেনের টিকিট পাওয়া হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ এড়াতে আগেভাগেই জানতে হবে টিকিট কাটার সঠিক নিয়ম ও কৌশল।
ঈদের সময় যাত্রীচাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। জনপ্রিয় রুটে টিকিট শেষ হয়ে যায় বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় কাউন্টার থেকে টিকিট না পাওয়ার অভিজ্ঞতা নতুন নয়।
ভ্রমণ খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেন্টমার্টিন ট্যুরিজম-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ হাসান ইস্পাহানি বলেন, ঈদের ট্রেনযাত্রা এখন পরিকল্পনার ওপর নির্ভরশীল। আগেভাগে নিবন্ধন, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ এবং নির্ধারিত সময়ে প্রবেশ না করলে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
যেভাবে কাটবেন ট্রেনের টিকিট
ট্রেনের টিকিট কেনার দুটি উপায় রয়েছে। একটি হলো স্টেশনের কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট কেনা। ঈদের সময় এই পদ্ধতিতে ভোগান্তি বেশি হয়। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় টিকিট মেলে না। তাই ঝুঁকি ও সময় সাশ্রয়ের জন্য অনলাইন পদ্ধতিই এখন বেশি জনপ্রিয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই টিকিট কেনা যায়। প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
নিবন্ধন শেষে যাত্রার তারিখ, ট্রেন, যাত্রা শুরুর ও গন্তব্য স্টেশন, আসনের শ্রেণি এবং যাত্রীর সংখ্যা নির্বাচন করতে হয়। এরপর আসন মানচিত্র থেকে পছন্দের আসন বেছে নিয়ে অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন করতে হয়।
অর্থ পরিশোধ সফল হলে টিকিটের ডিজিটাল কপি মোবাইল ফোন ও ইমেইলে পাওয়া যায়। যাত্রার সময় এই টিকিট প্রদর্শন করতে হতে পারে, তাই সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি।
কখন টিকিট ছাড়া হয়
ঈদের ট্রেনের টিকিট সাধারণত যাত্রার দশ দিন আগে ছাড়া হয়। অনলাইনে সকাল আটটায় এবং কাউন্টারে সকাল নয়টায় বিক্রি শুরু হয়। জনপ্রিয় রুটে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সকাল আটটার আগেই প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।
ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না যাচাই করুন। আগে থেকেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে রাখুন এবং অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখুন। সময়মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারলে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পরামর্শ
অফিসিয়াল মাধ্যম ছাড়া কোথাও থেকে টিকিট কিনবেন না। টিকিটের ডিজিটাল কপি ও প্রয়োজনে প্রিন্ট সঙ্গে রাখুন। দীর্ঘ যাত্রার জন্য পানি, হালকা খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেওয়া ভালো।