মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে জার্মানির প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং পরবর্তী পাল্টা আঘাতের পর আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বহু ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় হাজারো যাত্রী অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

জার্মানির ভ্রমণ বিষয়ক সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের প্রভাবে বিপুলসংখ্যক পর্যটক বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরার সম্ভাবনা অনিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে জার্মান সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগের পর্যটন কমিটির চেয়ারপার্সন আনিয়া কার্লিচেক বার্তা সংস্থা ডিপিএকে জানান, সংকটপূর্ণ অঞ্চলে আটকে পড়া পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, পরিস্থিতির দ্রুত মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভ্রমণ বিষয়ক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ডেয়ারটুর জানিয়েছে, তাদের বহু গ্রাহক সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান, জর্ডান, ইসরায়েল এবং কুয়েতে আটকা পড়েছেন। এদের সংখ্যা চার অঙ্কের কম বলে জানানো হয়েছে। জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ভ্রমণ সংগঠন এক বিবৃতিতে জানায়, আকাশপথ বন্ধ থাকায় যারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না অথবা সংযোগ ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছেন, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ডেয়ারটুর আরও জানিয়েছে, গ্রাহকদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগকেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত আটটি দেশে সব ধরনের ভ্রমণ বাতিল করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা চাইলে ভবিষ্যতে অন্য তারিখে বিনা খরচে নতুন করে ভ্রমণ নির্ধারণ করতে পারবেন। পাশাপাশি ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত নেওয়ার সুযোগও থাকছে।