রোজার মাসে ঈদের কেনাকাটা মানেই উৎসবের প্রস্তুতি। তবে ভিড়, গরম আর দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি মিলিয়ে এই আনন্দ সহজেই পরিণত হতে পারে শারীরিক ক্লান্তিতে। সামান্য পরিকল্পনা ও সচেতনতা থাকলে এড়ানো যায় অস্বস্তি, বজায় রাখা যায় সুস্থতা।
ঈদ সামনে এলেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বিপণিবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এ সময় তাপমাত্রাও বাড়তে শুরু করে। রোজা রেখে দীর্ঘ সময় কেনাকাটা করলে শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, রোজা রাখলে শরীর ভিন্ন ছন্দে কাজ করে। তাই ঈদের প্রস্তুতির উচ্ছ্বাসের মাঝেও শারীরিক সীমাবদ্ধতার দিকে নজর রাখা জরুরি। তার মতে, সামান্য পরিকল্পনা ও সচেতনতায় কেনাকাটার ক্লান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আগে থেকেই তালিকা করুন
কী কী কিনতে হবে, তা আগে থেকে লিখে রাখলে অযথা বিভিন্ন দোকান ঘুরতে হয় না। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে সময় ও শক্তি দুটোই সাশ্রয় হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় খাটনি কমে এবং কেনাকাটাও হয় দ্রুত।
পোশাকে রাখুন স্বস্তি
গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পায়ে আরামদায়ক স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটিতে চাপ কম পড়ে। সঙ্গে ভেজা টিস্যু রাখলে ঘাম মুছতে সুবিধা হয়। ছোট বহনযোগ্য পাখাও স্বস্তি দিতে পারে।
সময় ও স্থান বেছে নিন
দুপুরের তীব্র গরম এড়িয়ে বিকেল বা ইফতারের পর কেনাকাটা করা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। যদি দিনের বেলায় যেতে হয়, তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিপণিবিতান বেছে নেওয়া ভালো। এতে অতিরিক্ত ঘাম ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে।
খাবার ও পানিতে সচেতনতা
ইফতার ও সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত তরল শরীরকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে।
অবহেলা নয় সতর্কতা
কেনাকাটার সময় অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা শরীরে ব্যথা শুরু হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। ডা. নয়নের ভাষ্য, এগুলো পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে বিশ্রাম নিতে হবে। ইফতারের পর এসব উপসর্গ দেখা দিলে পানি পান করা জরুরি। লেবুর শরবত বা ডাবের পানি শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক।