বিদেশ ভ্রমণ মানেই নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন সংস্কৃতি আর ভিন্ন জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচয়। তবে অনেক পর্যটকই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যান। এক দেশে স্বাভাবিক বলে মনে হওয়া কাজ অন্য দেশে গুরুতর অপরাধ হতে পারে। স্থানীয় আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা বিদেশে বিপাকে ফেলতে পারে যে কাউকে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন কিছু কঠোর আইন রয়েছে, যেগুলো ভ্রমণকারীদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। এসব আইন ভঙ্গ করলে বড় অঙ্কের জরিমানা, দীর্ঘ কারাদণ্ড কিংবা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিও হতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন সম্পর্কে ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সিঙ্গাপুরে চুইংগাম সংক্রান্ত বিধিনিষেধ

পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার জন্য সিঙ্গাপুর বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সেখানে ১৯৯২ সাল থেকে চুইংগাম আমদানি ও বাণিজ্যিক বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে চুইংগাম খাওয়া পুরোপুরি অবৈধ নয়। চিকিৎসাজনিত কিছু চুইংগাম সীমিতভাবে অনুমোদিত। কিন্তু রাস্তাঘাটে বা জনসমাগমস্থলে চুইংগাম ফেলে নোংরা করলে কঠোর জরিমানা গুনতে হয়।
বারবার এমন অপরাধ করলে শাস্তি হিসেবে জনসমক্ষে পরিচ্ছন্নতামূলক কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে। সিঙ্গাপুরে পরিচ্ছন্নতা কেবল সামাজিক বিষয় নয়, এটি আইনের বিষয় হিসেবেই বিবেচিত।

থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্র অবমাননা আইন

থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্রকে ঘিরে বিশ্বের অন্যতম কঠোর আইন কার্যকর রয়েছে। রাজা, রানি, উত্তরাধিকারী বা রাজপ্রতিনিধিকে অবমাননা, অপমান বা হুমকি দেওয়া গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে।
এই আইন মৌখিক বক্তব্য, লিখিত মন্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এমনকি থাইল্যান্ডের মুদ্রায় রাজপরিবারের ছবি থাকায় সেই মুদ্রার প্রতি অসম্মান দেখালেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় মাদক সংক্রান্ত কঠোর শাস্তি

ইন্দোনেশিয়ায় মাদকবিরোধী আইন অত্যন্ত কঠোর। অল্প পরিমাণ মাদক রাখলেও দীর্ঘ কারাদণ্ড হতে পারে। মাদক পাচারের ক্ষেত্রে সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। স্থানীয় নাগরিক ও বিদেশি পর্যটক সবার ক্ষেত্রেই একই আইন কার্যকর। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কঠোর নজরদারি চালানো হয়।

মালয়েশিয়ায় মাদক পাচারের আইনি ধারণা

মালয়েশিয়াতেও মাদক সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর। নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক কারও কাছে পাওয়া গেলে তাকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে ধরে নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের নির্দোষ প্রমাণের দায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপরই পড়ে।
দেশটিতে মাদক পাচারের শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তাই ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার অজুহাত সেখানে গ্রহণযোগ্য নয়।

বার্বাডোসে সামরিক নকশার পোশাক নিষিদ্ধ

ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের মতো বার্বাডোসেও সামরিক নকশার পোশাক সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ। এই ধরনের পোশাক কেবল সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত। পর্যটকরাও এ ধরনের পোশাক পরতে পারবেন না। নিয়ম ভঙ্গ করলে পোশাক জব্দ করা হতে পারে এবং জরিমানাও দিতে হতে পারে।

ইতালিতে ঐতিহাসিক স্থাপনা নষ্ট করলে কঠোর শাস্তি

ইতালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বহু ঐতিহাসিক স্থাপনার আবাসস্থল। এসব ঐতিহ্য রক্ষায় দেশটি অত্যন্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করে। প্রাচীন স্থাপনায় নিজের নাম খোদাই করা, ঐতিহাসিক ঝরনার ওপর বসা বা সংরক্ষিত এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ার মতো কাজের জন্য পর্যটকদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে বহুবার।
রোমের কলোসিয়ামের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনায় সামান্য ক্ষতিও করলে হাজার হাজার ইউরোর জরিমানা, ফৌজদারি মামলা এবং ভবিষ্যতে ওই দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন কেউ।

নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে মদ্যপান নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরের মতো নিউইয়র্কেও প্রকাশ্যে মদ্যপান করা নিষিদ্ধ। রাস্তা, ফুটপাত বা পার্কের মতো জনসমাগমস্থলে খোলা বোতল বা পাত্রে মদ বহন করা কিংবা পান করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে নির্ধারিত কিছু জায়গায় এই নিয়মের ব্যতিক্রম থাকতে পারে। যেসব দেশে প্রকাশ্যে মদ্যপান সাধারণ বিষয়, সেখানকার পর্যটকদের জন্য এই আইন অনেক সময় বিস্ময়কর হয়ে ওঠে।