নদী ও খালবেষ্টিত বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরেই ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে আসছে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এবার পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো এই অঞ্চলে। বরিশালে যাত্রা শুরু করেছে বিলাসবহুল নদী ভ্রমণ জাহাজ ‘দ্যা সেইল’, যা নদীপথে আরামদায়ক ভ্রমণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে পর্যটকদের জন্য।

উপকূলীয় পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করতে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা এবং অতিথি টুরিজম সার্ভিসের উদ্যোগে এই নদী ভ্রমণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বরিশাল নগরীর ৩০ গোডাউন এলাকার ঐতিহ্যবাহী কীর্তনখোলা নদীর জেটি ঘাট থেকে জাহাজটির যাত্রা শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশালের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোসাম্মৎ মরিয়ম এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বরিশালের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুশান্ত দাশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন।

অনুষ্ঠানে নদী ভ্রমণ জাহাজ ও পর্যটন প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, নদীপথে ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি রোমান ইমতিয়াজ তুষার, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ভ্যালু চেইন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. ইরফান আলী, সেন্ট বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, নদীমাতৃক বরিশালের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। নদী, খাল ও সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশকে ঘিরে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে এ অঞ্চল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

আয়োজকদের মতে, পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হবে এই নদী ভ্রমণ কার্যক্রম। জাহাজে পর্যটকদের জন্য বিষমুক্ত খাবার পরিবেশন করা হবে। একই সঙ্গে পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিহার করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।