পিচঢালা ব্যস্ত সড়কও যে কখনো প্রকৃতির রঙে সাজতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ এখন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। গাজীপুর অংশে সড়ক বিভাজকের দুই পাশে ফুটে থাকা পলাশ ও জাপানি চেরি গোত্রের ক্যাসিয়া রেনিজেরা ফুলে পুরো মহাসড়ক যেন বসন্তের এক বর্ণিল বাগানে রূপ নিয়েছে। যাত্রাপথে এমন দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা।
মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে এখন চোখে পড়ে রক্তরাঙা পলাশ, আবার কোথাও সাদা, হালকা গোলাপি কিংবা গাঢ় গোলাপি রঙের ক্যাসিয়া রেনিজেরা ফুল। বসন্তের শুরুতেই এসব ফুল ফুটে সড়কের মাঝের বিভাজককে রঙিন করে তুলেছে। বিশেষ করে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় ফুলের সমারোহে সড়কটি অনেকের চোখে যেন দূরদেশের কোনো ফুলে ভরা পথের স্মৃতি জাগায়।
এ দৃশ্য দেখতে অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন। কেউ আবার চলন্ত বাস বা মাইক্রোবাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে উপভোগ করছেন বসন্তের এই সৌন্দর্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ফুলের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন অনেকেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সময় সড়ক বিভাজকের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল এক পাশের গাড়ির হেডলাইটের আলো যেন বিপরীত পাশের চালকদের চোখে সরাসরি না পড়ে। পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্য বাড়ানোর কথাও বিবেচনায় রাখা হয়।
তখন লাগানো গাছের মধ্যে ছিল সোনালু, কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কদম, পলাশ, বাগানবিলাস, কুর্চি, টগর, জবা, বকুল, জারুলসহ নানা প্রজাতির ফুলগাছ। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়ছে জাপানি চেরি গোত্রের ক্যাসিয়া রেনিজেরা।
পথচারী রুহুল আমিন বলেন, এই ফুল সাধারণত বসন্তের শুরুতে ফোটে। শীত শেষে গাছের পাতা ঝরে গেলে ফুলে ভরে ওঠে ডালপালা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি গাছ পুরোটা জুড়ে ফুলের তোড়া ঝুলছে।
সড়কের মাঝের আইল্যান্ডে লাগানো এসব গাছে যখন একসঙ্গে ফুল ফোটে, তখন পুরো মহাসড়কের পরিবেশই বদলে যায়। ব্যস্ত যাত্রাপথেও প্রকৃতির এই রঙিন উপস্থিতি যাত্রীদের মনে স্বস্তি এনে দেয় বলে মনে করেন অনেকেই।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তারিক হোসেন জানান, সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের মানসিক প্রশান্তির কথা মাথায় রেখেই এসব গাছ লাগানো হয়েছিল। ভবিষ্যতেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আরও নানা প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।