বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে দূর থেকে কাজের প্রবণতা। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বিদেশি রিমোট কর্মীদের আকর্ষণ করতে দেশটি চালু করেছে নতুন ‘ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা’। পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করা এবং ২০২৬ সালের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে ফোর্বস এ খবর জানিয়েছে। ফোর্বসের সংবাদটি পড়তে পারেন এই লিংকে

শ্রীলঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত। বিস্তীর্ণ বালুকাময় সমুদ্রসৈকত, জাতীয় উদ্যানে হাতি ও চিতাবাঘের মতো বন্যপ্রাণী, প্রাচীন রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ, বৌদ্ধ মন্দির, চা-বাগান এবং সমুদ্রতীরবর্তী সার্ফিং গন্তব্য দেশটিকে পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

দেশটির পূর্ব উপকূলের আরুগাম বে সার্ফিংয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। অন্যদিকে মিনেরিয়া জাতীয় উদ্যানে এশীয় হাতির বিশাল সমাবেশ বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দৃশ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া তিমি ও ডলফিন পর্যবেক্ষণ, সাফারি, ডাইভিং এবং পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ হাঁটার পথও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২৩ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক শ্রীলঙ্কা সফর করেন। তবে সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ লাখে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এই লক্ষ্য পূরণে নতুন ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন ভিসার শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর মাসিক আয় কমপক্ষে দুই হাজার মার্কিন ডলার হতে হবে। দুই সন্তানের বেশি থাকলে অতিরিক্ত প্রতিটি সন্তানের জন্য আরও পাঁচশ ডলার আয় দেখাতে হবে।

আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহকদের জন্য কাজ করেন এবং স্থানীয় শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করছেন না। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা এবং থাকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা শ্রীলঙ্কার অভিবাসন ও প্রবাসন বিভাগ প্রকাশ করেছে।

এই ভিসার মেয়াদ এক বছর। ভিসাধারীরা দেশটিতে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন এবং পরিবারের সদস্যদের স্কুলে ভর্তি করানোর সুযোগ পাবেন। প্রতিজনের জন্য আবেদন ফি প্রায় পাঁচশ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইন্টারনেটের গতি তুলনামূলক ধীর হওয়ায় কিছু রিমোট কর্মীর জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বৈশ্বিক স্থির ব্রডব্যান্ড গতির তালিকায় শ্রীলঙ্কার অবস্থান বর্তমানে ১৩১তম।

বিশ্বব্যাপী এখন ৬০টির বেশি দেশ ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা চালু করেছে। ২০২০ সালের পর থেকেই এই ধরনের কর্মসূচির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। এর লক্ষ্য হলো বিদেশি রিমোট কর্মীদের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।