ভ্রমণের জন্য পাসপোর্টকে আমরা সাধারণত একটি বাধ্যতামূলক সরকারি নথি হিসেবেই দেখি। কিন্তু বিশ্বের কিছু দেশে এই ছোট বইটি শুধু সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতিপত্র নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে জাতীয় পরিচয়, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং নান্দনিকতার প্রতীক। কোথাও পাসপোর্টে ব্যবহার করা হয়েছে আদিবাসী ভাষা, কোথাও আবার আলো ফেললেই ফুটে ওঠে পাহাড়, আকাশ কিংবা প্রাকৃতিক দৃশ্যের শিল্পকর্ম। আবার কিছু পাসপোর্ট আছে, যেগুলো এতটাই বিরল যে সাধারণ মানুষের হাতে তা কখনোই পৌঁছায় না। নকশা, ভাষা ও আন্তর্জাতিক সুবিধার কারণে বিশ্বে সবচেয়ে অনন্য এমন পাঁচটি পাসপোর্ট নিয়েই এই প্রতিবেদন।
নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের পাসপোর্ট অনন্যতার দিক থেকে আলাদা করে নজর কাড়ে। কারণ এতে ইংরেজির পাশাপাশি দেশটির আদিবাসী ভাষা মাওরি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কেবল একটি ভ্রমণ নথি নয়, বরং নিউজিল্যান্ডের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ। পাসপোর্টের ভেতরের পাতায় পাতায় রয়েছে ফার্ন প্যাটার্ন ও দেশীয় প্রতীক, যা বিশেষ আলোতে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পাশাপাশি ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধার দিক থেকেও এটি বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টগুলোর একটি।
ভ্যাটিকান সিটি
ভ্যাটিকান সিটির পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে বিরল পাসপোর্টগুলোর মধ্যে পড়ে। বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র হওয়ায় এখান থেকে পাসপোর্ট দেওয়া হয় মাত্র কয়েকশ মানুষের জন্য। সাধারণ নাগরিকদের জন্য নয়, বরং পোপের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা, উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতা, কূটনীতিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের দায়িত্বের ভিত্তিতে এই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্ব শেষ হলে পাসপোর্টটিও ফেরত নিতে হয়।
নরওয়ে
নরওয়ের পাসপোর্ট নকশার দিক থেকে সত্যিই ব্যতিক্রম। আল্ট্রাভায়োলেট আলোতে এর পাতাগুলোতে নরওয়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য, যেমন ফিয়র্ড, আর্কটিক অঞ্চল ও নর্দার্ন লাইটসের ছবি ভেসে ওঠে। নিরাপত্তা প্রযুক্তির সঙ্গে শিল্পের এমন মেলবন্ধন খুব কম পাসপোর্টেই দেখা যায়, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পাসপোর্টগুলোর একটি বানিয়েছে।
জাপান
জাপানের পাসপোর্ট বাইরে থেকে বেশ সাধারণ মনে হলেও ভেতরের পাতায় রয়েছে মাউন্ট ফুজি ও চেরি ব্লসমের মতো জাপানি সংস্কৃতির প্রতীকী ছবি, যা ইউভি আলোতে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তবে এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সুবিধা। দীর্ঘদিন ধরে জাপানের পাসপোর্ট ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।