ইন্দোনেশিয়ার নাম উঠলেই অধিকাংশ ভ্রমণপিপাসুর মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে বালি দ্বীপের ছবি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও সমুদ্রসৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু। তবে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ এখন বালির পরিবেশ ও স্থানীয় সংস্কৃতির ওপরও প্রভাব ফেলছে।
এ কারণে অনেক ভ্রমণপ্রেমী এখন বালির বিকল্প গন্তব্য খুঁজছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপমালা ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ। এর মধ্যে অনেকগুলোই এখনও তুলনামূলক কম পরিচিত, কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
এই দ্বীপগুলোর অনেকই প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে অবস্থিত ‘কোরাল ট্রায়াঙ্গেল’ অঞ্চলের অংশ। বিশ্বে পরিচিত প্রবাল প্রজাতির প্রায় ৭৬ শতাংশ এবং বিপুল সংখ্যক প্রবালপ্রাচীরের মাছ এই অঞ্চলে পাওয়া যায়। সমুদ্রজীববৈচিত্র্যের কারণে একে অনেক সময় ‘সমুদ্রের আমাজন’ও বলা হয়।
লম্বক
বালির ঠিক পূর্বে অবস্থিত লম্বক দ্বীপটি সাদা বালুর সৈকত ও সার্ফিংয়ের জন্য পরিচিত। কুটা লম্বক সার্ফিংপ্রেমীদের জনপ্রিয় স্থান। নতুনদের জন্য সেলং বেলানাক সৈকতের ঢেউ তুলনামূলক শান্ত।
দ্বীপটির উত্তরে রয়েছে গুনুং রিনজানি আগ্নেয়গিরি, যা ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি। স্থানীয় সাসাক জনগোষ্ঠী ও বালিনিজ হিন্দুদের কাছে এটি পবিত্র স্থান। ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছে রিনজানির চূড়ায় ওঠা বড় আকর্ষণ।
সুম্বা
লম্বকের দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থিত সুম্বা দ্বীপটি সার্ফিং ও স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। ইন্ডিয়ান মহাসাগরের ঢেউ এখানে সার্ফিংয়ের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
দ্বীপটিতে লাপোপু জলপ্রপাতসহ কয়েকটি প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। উত্তর–পশ্চিমের উইকুরি লেগুনের শান্ত পানিতে পর্যটকেরা সাঁতার বা বিশ্রাম উপভোগ করেন। স্থানীয় গ্রামগুলোতে ঐতিহ্যবাহী খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর এবং প্রাচীন মেগালিথিক সমাধি দেখা যায়।
ফ্লোরেস, কোমোডো ও রিনকা
নুসা তেঙ্গারা অঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপ থেকে নৌকায় করে যাওয়া যায় কোমোডো ও রিনকা দ্বীপে। এখানে দেখা যায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টিকটিকি প্রজাতি কোমোডো ড্রাগন, যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
এই অঞ্চলের সমুদ্রজলে রয়েছে সমৃদ্ধ প্রবাল উদ্যান ও সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য। ডাইভিং বা স্নরকেলিংয়ের সময় মান্টা রে, সবুজ কচ্ছপ, রিফ শার্কসহ নানা রঙের মাছ দেখা যায়। কোমোডোর বিখ্যাত পিঙ্ক বিচও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
রাজা আমপাত
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব প্রান্তের এই দ্বীপপুঞ্জ বিশ্বের অন্যতম সেরা ডাইভিং গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। এখানে বিস্তৃত প্রবালপ্রাচীর ও সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রয়েছে।
জঙ্গলে হাঁটা, কায়াক ভ্রমণ বা বিরল পাখি পর্যবেক্ষণও পর্যটকদের জন্য বড় আকর্ষণ। চুনাপাথরের ছোট ছোট দ্বীপের দৃশ্য এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও অনন্য করে তুলেছে।
স্পাইস আইল্যান্ডস
মালুকু অঞ্চলের স্পাইস আইল্যান্ডস একসময় জায়ফল ও লবঙ্গ বাণিজ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল। ইউরোপীয় বণিক ও উপনিবেশকারীদের আগমনের ফলে এই দ্বীপগুলোর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি হয়েছে।
ব্যান্ডা নেয়ারায় এখনও দেখা যায় পুরোনো দুর্গ, গির্জা ও জাদুঘরের ধ্বংসাবশেষ। এখানকার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি গুনুং আপি এবং সমৃদ্ধ প্রবালপ্রাচীরও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।