মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার সরাসরি ধাক্কা লেগেছে মালদ্বীপের পর্যটন খাতে। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার বুকিং বাতিল হচ্ছে, কমছে ফ্লাইট সক্ষমতা, স্থগিত হচ্ছে হাজারো ভ্রমণ পরিকল্পনা। ফলে পর্যটননির্ভর এই দ্বীপদেশের অর্থনীতি এখন স্পষ্ট চাপের মুখে।
মঙ্গলবার স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ পর্যটকের বুকিং বাতিল হচ্ছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফোরকানের মতে, ইউরোপ থেকে মালদ্বীপে আসা পর্যটকদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট হাব ব্যবহার করেন। কিন্তু ওই অঞ্চলের অস্থিরতায় বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন।
এর প্রভাব পড়ছে পুরো পর্যটন খাতজুড়ে। শুধু বিলাসবহুল রিসোর্ট নয়, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, স্থানীয় গেস্টহাউসসহ ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোও আর্থিক ঝুঁকিতে পড়ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মালদ্বীপে আসা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার পর্যটকের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজারই ছিলেন ইউরোপ থেকে। এদের বড় অংশ দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে ভ্রমণ করেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সরাসরি ইউরোপীয় বাজারে প্রভাব ফেলছে।
পর্যটনমন্ত্রী ইব্রাহিম জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সগুলোর আসন সক্ষমতা প্রায় ৩১ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে আগে বুকিং করা পর্যটকদের প্রায় ৩৫ শতাংশের ভ্রমণ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে এমিরেটস, ইতিহাদ, কাতার এয়ারওয়েজ ও গালফ এয়ারসহ শীর্ষ এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইটে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রায় ৪৯০০ পর্যটক মালদ্বীপে যেতে পারেননি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর নেতৃত্বে একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে।
একই সঙ্গে পর্যটন মন্ত্রণালয় বিকল্প বাজারের দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে চীন, ভারত ও রাশিয়া থেকে পর্যটক বাড়াতে প্রচারণা জোরদার করা হচ্ছে। রাশিয়ার অ্যারোফ্লোট ও ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া এয়ার এশিয়ার ওয়াইড-বডি বিমান চালুর প্রস্তুতি এবং তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে আটকে পড়া ১৬৮০-এর বেশি পর্যটককে ইতোমধ্যে সহায়তা দিয়েছে সরকার।