গ্রীষ্মের ছুটিতে সমুদ্র, নীরবতা আর নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে যারা পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য দ্বীপভ্রমণ হতে পারে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পছন্দ। ব্যস্ত নগরজীবন থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর জলভিত্তিক নানা কার্যক্রম উপভোগের সুযোগ দেয় দ্বীপগুলো। তবে শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, প্রতিটি দ্বীপের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যই ভ্রমণকে করে তোলে ভিন্নধর্মী ও স্মরণীয়।

বিশ্বজুড়ে এমন কিছু দ্বীপ আছে, যেগুলো সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যের জন্যও আলাদা করে নজর কাড়ে। কোথাও আগ্নেয়গিরির প্রভাব, কোথাও প্রবালপ্রাচীর, আবার কোথাও বনাঞ্চল ঘেরা নির্জনতা। পর্যটন সুবিধা ও পরিবেশগত বৈচিত্র্যের দিক থেকেও প্রতিটি দ্বীপ আলাদা।

ইন্দোনেশিয়ার বালি
সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও সহজ যাতায়াতের সমন্বয় খুঁজলে বালি অন্যতম সেরা গন্তব্য। সকালে পাহাড়চূড়ার উলুওয়াতু মন্দির ঘুরে বিকেলে উবুদের সবুজ ধানক্ষেত বা ক্যাফেতে সময় কাটানো যায়। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুষ্ক আবহাওয়া, পরিষ্কার আকাশ ও কম আর্দ্রতা ভ্রমণকে আরামদায়ক করে তোলে।

গ্রিসের সান্তোরিনি
আগ্নেয়গিরি সৃষ্ট ভূপ্রকৃতি ও বিখ্যাত সূর্যাস্তের জন্য সান্তোরিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ওইয়া ও ফিরার মতো বহুস্তরবিশিষ্ট গ্রামগুলো দ্বীপটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। গ্রীষ্মকালে এজিয়ান সাগরের নীল রং সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, আর দিনের শেষে দীর্ঘস্থায়ী সোনালি আলো ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে।

থাইল্যান্ডের ফুকেট
বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার জন্য ফুকেটকে বলা হয় আদর্শ দ্বীপগন্তব্য। পার্টি সংস্কৃতির বাইরে কাটা ও কারন সৈকতের মতো শান্ত জায়গাও রয়েছে। মে থেকে অক্টোবর বর্ষা মৌসুম হলেও ভিড় কম থাকে এবং প্রকৃতি সবুজ হয়ে ওঠে। স্বল্প সময়ের বৃষ্টিপাত ভ্রমণে তেমন বাধা তৈরি করে না। এখান থেকে ফি ফি দ্বীপ বা ফাং নগা উপসাগরে দিনভ্রমণও জনপ্রিয়।

সেশেলস
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য সেশেলস আলাদা গুরুত্ব পায়। তুলনামূলক কম ভিড়, পরিবেশবান্ধব পরিবেশ এবং শান্ত আবহ এই দ্বীপ রাষ্ট্রকে বিশেষ করে তোলে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সাগর শান্ত থাকে, যা স্নোরকেলিং ও ডাইভিংয়ের জন্য উপযুক্ত। গ্রানাইট পাথরে ঘেরা অঁসে লাজিও ও অঁসে সোর্স দারজঁ বিশ্বের সেরা সৈকতগুলোর মধ্যে ধরা হয়।

ভারতের হ্যাভলক দ্বীপ
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের হ্যাভলক দ্বীপ দেশীয় পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা পাওয়া গেলেও যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। বর্ষার আগে গ্রীষ্মের শুরুতে ভ্রমণ উপযোগী সময়। রাধানগর সৈকতের সাদা বালি ও নির্জন পরিবেশ বিশেষ আকর্ষণ। পাশাপাশি স্কুবা ডাইভিং ও স্নোরকেলিংয়ের জন্যও এটি পরিচিত।