ভ্রমণ মানেই এখন আর শুধু দর্শনীয় স্থান দেখা নয়। আধুনিক পর্যটকরা চাইছেন ধীরগতির, পরিবেশবান্ধব ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। সেই চাহিদা থেকেই ২০২৬ সালের ভ্রমণ ট্রেন্ডে উঠে এসেছে ‘ওয়াকেবল সিটি’ বা পায়ে হাঁটতে সুবিধাজনক শহরের ধারণা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ট্রাভেল পোর্টাল স্কাইস্ক্যানার প্রকাশিত এক ওয়াকেবিলিটি ইনডেক্সে উঠে এসেছে বিশ্বের এমন পাঁচটি শহরের নাম, যেগুলো হেঁটে ঘুরে দেখাই সবচেয়ে উপভোগ্য।
এই তালিকা তৈরিতে শহরগুলোর দর্শনীয় স্থানের মধ্যকার দূরত্ব, নিরাপত্তা, বাতাসের মান, ভূপ্রকৃতি, হাঁটার ট্রেইল এবং সামগ্রিক নাগরিক পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, ছোট ও সুশৃঙ্খল শহরগুলোই ২০২৬ সালের ভ্রমণপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ হতে যাচ্ছে।
কোরদোবা, স্পেন
তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্পেনের ঐতিহাসিক শহর কোরদোবা। আন্দালুসিয়ার এই শহরটি তার কমপ্যাক্ট পুরোনো নগরকেন্দ্র এবং সমৃদ্ধ স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক এলাকা পুরোপুরি হাঁটার উপযোগী। বিখ্যাত মেজকিতা-ক্যাথেড্রালসহ প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো মাত্র ২৫–৩০ মিনিটের হাঁটার মধ্যেই অবস্থিত। শহরজুড়ে রয়েছে প্রায় ৩০টির বেশি ওয়াকিং ট্রেইল।
নাগাসাকি, জাপান
জাপানের কিউশু দ্বীপে অবস্থিত নাগাসাকি ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিশেল। শহরটির রাস্তা, মাঝারি উচ্চতা এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো হাঁটার জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেও নাগাসাকি উচ্চ নম্বর পেয়েছে।
হিরোশিমা, জাপান
আরেক জাপানি শহর হিরোশিমা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে তার সুসংগঠিত নগরকেন্দ্রের কারণে। পিস মেমোরিয়াল পার্ক, জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় হেঁটে ঘোরাই এখানে সবচেয়ে সহজ উপায়। পুরো শহর ঘুরতে গড়ে ৪০ মিনিটের মতো হাঁটাই যথেষ্ট।
রেজিও কালাব্রিয়া, ইতালি
ইতালির দক্ষিণের উপকূলীয় শহর রেজিও কালাব্রিয়া হাঁটতে ভালোবাসা পর্যটকদের জন্য আদর্শ। সিসিলি প্রণালীর ধারে অবস্থিত এই শহরের প্রধান আকর্ষণগুলো মাত্র ২৫ মিনিটের হাঁটার মধ্যে। সমুদ্রপাড়ের প্রমেনাড, জাদুঘর ও ভাস্কর্যগুলো হাঁটতেই উপভোগ্য।
মন্টে কার্লো, মোনাকো
বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত হলেও মন্টে কার্লো আকারে ছোট এবং অত্যন্ত ওয়াকেবল। এক বর্গকিলোমিটারেরও কম আয়তনের এই শহরে ক্যাসিনো, হারবার, বাগান ও শপিং এরিয়া পায়ে হেঁটেই ঘোরা যায়।