বিদেশি পর্যটক টানতে বড় পরিবর্তনের পথে চীন। নতুন করে সাজানো ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থায় কেনাকাটার সময়ই টাকা ফেরত পাওয়ার সুবিধা চালু হয়েছে। এতে ভ্রমণ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের ব্যয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সংকটের পর পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে চীন ধাপে ধাপে এই সংস্কার চালু করেছে। আগে যেখানে বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভ্যাট ফেরত নিতে হতো, এখন অনেক দোকানেই সরাসরি কেনাকাটার সময় পাসপোর্ট দেখিয়ে রিফান্ড পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সময় বাঁচছে এবং ঝামেলা কমছে।

সাধারণত নির্দিষ্ট পণ্যে প্রায় ১১ শতাংশ ভ্যাট ফেরত পাওয়া যায়। নতুন ব্যবস্থায় এই টাকা নগদ বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে দ্রুত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এতে পর্যটকরা সেই অর্থ আবার তাৎক্ষণিকভাবে খরচ করতে পারছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কমেছে খরচের সীমা ও শর্ত
রিফান্ড পেতে এখন দৈনিক ন্যূনতম কেনাকাটার সীমা ২০০ ইউয়ান, যা আগে ছিল ৫০০ ইউয়ান। ফলে ছোট কেনাকাটাও এখন রিফান্ডের আওতায় এসেছে।

নগদ রিফান্ডের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার ইউয়ান করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ। ব্যাংক বা অনলাইন মাধ্যমে রিফান্ড নিলে নির্দিষ্ট কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।

রিফান্ডের জন্য পাসপোর্ট দেখানোই এখন প্রধান শর্ত। তবে কেনা পণ্য দেশ ছাড়ার আগে ব্যবহার না করার নিয়ম বজায় রয়েছে, কারণ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা পরীক্ষা করতে পারে।

দেশজুড়ে বাড়ছে অংশগ্রহণকারী দোকান
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রিফান্ড সুবিধাযুক্ত দোকানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৫২টি। এর মধ্যে সাত হাজারের বেশি দোকানে তাৎক্ষণিক রিফান্ড দেওয়া হচ্ছে।

বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংজু, শেনঝেন ও কিংদাওয়ের মতো বড় শহরের শপিং জোন, বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা ও হোটেলে এসব সুবিধা বেশি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিপণ্য, পোশাক, সৌন্দর্যপণ্য ও স্থানীয় হস্তশিল্পের দোকানগুলোও যুক্ত হচ্ছে।

পর্যটক ফেরাতে বড় পরিকল্পনা
এই উদ্যোগ বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ভিসা সহজীকরণ, দীর্ঘ ট্রানজিট সুবিধা, বিদেশিদের জন্য সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং দ্রুত কাস্টমস প্রক্রিয়াও চালু হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ট্যাক্স রিফান্ড নেওয়া বিদেশি ক্রেতার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২৮৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট বিক্রি প্রায় ৯৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগোতে চীন
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইউরোপের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চীন এই ব্যবস্থা আধুনিক করেছে। লক্ষ্য এখন শুধু ভ্রমণ নয়, বরং কেনাকাটাকেও বড় আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা।