বান্দরবানের থানচিতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌযাত্রা ঘিরে ভাড়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তীব্র হয়েছে। জনপ্রিয় গন্তব্য আমিয়াখুম ও নাফাখুম জলপ্রপাত ভ্রমণে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি নৌ-সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে এলাকার সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন স্থানীয় পর্যটক গাইড ফ্রান্সিস ত্রিপুরা। মঙ্গলবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠিটি প্রকাশ করেন, যা পরে বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, থানচি ঘাট থেকে রেমাক্রি ও নাফাখুমে যাতায়াতের জন্য যেখানে নৌকার স্বাভাবিক ভাড়া আসা-যাওয়া মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা, সেখানে বর্তমানে সিন্ডিকেটের কারণে শুধু যাওয়ার জন্যই ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

তার দাবি, ‘জ্বালানি তেল সংকট’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকরা নিজেরাই তেল কিনে দিলেও ভাড়া কমানো হচ্ছে না। বরং একই উচ্চ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

ফ্রান্সিস ত্রিপুরা তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ২৬ মার্চ চাঁদপুর থেকে আসা ১৫ সদস্যের একটি পর্যটক দলের গাইড হিসেবে থানচি ঘাটে গিয়ে তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যা তার পেশাগত জীবনের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ ভাড়ায় মাঝিরা তেলের অভাবের কথা বললেও অতিরিক্ত টাকা দিলে সহজেই তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং নৌকা চলাচল করছে। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। একবার প্রতারিত হলে তারা আর এই গন্তব্যে ফিরতে আগ্রহী হবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়লে পর্যটকরা বিকল্প স্থান বেছে নেবেন।

এছাড়া, গাইডদের সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পূর্বনির্ধারিত খরচের আশ্বাস দিয়েও তারা পর্যটকদের কাছে বিব্রত হচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদে পর্যটক কমে গেলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল স্থানীয়দের জীবিকাও ঝুঁকিতে পড়বে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ফ্রান্সিস ত্রিপুরা। তিনি নৌভাড়া নির্ধারণ করে ঘাটে তালিকা টানানো, নিয়মিত মনিটরিং, অনিয়মে জড়িতদের লাইসেন্স বাতিল এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য কার্যকর হেল্পডেস্ক স্থাপনের দাবি জানান।