বিশ্বভ্রমণপ্রেমীদের ভোটে নির্ধারিত মর্যাদাপূর্ণ ট্রাভেলার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস বেস্ট অব দ্য বেস্ট তালিকায় এবারও স্থান করে নিয়েছে এশিয়ার কয়েকটি মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকত। ভ্রমণপিপাসুদের অভিজ্ঞতা ও রেটিংয়ের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই তালিকায় থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার তিনটি সৈকত বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
ট্রিপ অ্যাডভাইজারের প্রকাশিত তালিকায় থাইল্যান্ডের বানানা বিচ রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। অন্যদিকে ১৫ ও ১৬ নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে দুবাইয়ের কাইট বিচ এবং ইন্দোনেশিয়ার কেলিংকিং বিচ। প্রকৃতি, সৌন্দর্য, বিনোদন ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এই তিনটি সৈকতকে পর্যটকেরা ‘ড্রিম এসকেপ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার নুসা পেনিডায় অবস্থিত কেলিংকিং বিচ তার নাটকীয় প্রাকৃতিক গঠনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশাল চুনাপাথরের ক্লিফটি দেখতে অনেকটা টি-রেক্স ডাইনোসরের মতো, যা সমুদ্রের নীল জলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হয়। পাহাড়চূড়া থেকে নীল সমুদ্র ও সাদা বালুর যে দৃশ্য দেখা যায়, তা পর্যটকদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়। প্রায় ৪০০ মিটার খাড়া পাহাড় বেয়ে নিচে নামার অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চপ্রিয়দের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। নিচে পৌঁছালে মেলে নির্জন ও প্রায় আদিম পরিবেশের এক সৈকত। পশ্চিমমুখী হওয়ায় এখানে সূর্যাস্তও দৃষ্টিনন্দন।
থাইল্যান্ডের ফুকেটের কোহ হে দ্বীপে অবস্থিত বানানা বিচ শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশের জন্য জনপ্রিয়। ফিরোজা রঙের স্বচ্ছ পানি ও নরম সাদা বালুর এই সৈকতের বাঁকানো আকৃতি কলার মতো হওয়ায় এর নাম হয়েছে বানানা বিচ। চারপাশে সবুজ গাছপালা আর পামগাছের আবরণ এই সৈকতকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। স্নরকেলিংয়ের জন্য এটি আদর্শ স্থান, যেখানে দেখা মেলে রঙিন মাছ ও স্টারফিশ। ফুকেটের ব্যস্ত সৈকতের ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি সময় কাটাতে এটি পর্যটকদের কাছে একটি হিডেন জেম। পাশাপাশি কায়াকিং, প্যাডলিং এবং সৈকতসংলগ্ন রেস্তোরাঁয় তাজা খাবার উপভোগের সুযোগ রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত কাইট বিচ আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য পরিচিত। পরিবার ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী উভয়ের জন্যই এটি উপযোগী একটি গন্তব্য। দুপুরের পর বাতাস বাড়লে এখানে কাইট সার্ফিং বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি প্যারাসেইলিং, উইন্ডসার্ফিং, ওয়েকবোর্ডিং ও কায়াকিংয়ের মতো নানা জলক্রীড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের জন্য বাঞ্জি ট্রাম্পোলাইন, ক্লাইম্বিং পার্ক ও স্কেট পার্কও রয়েছে। দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক ও সাইক্লিং সুবিধা স্বাস্থ্যসচেতন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এছাড়া সৈকতসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন এশীয় ও আরবীয় খাবারের পাশাপাশি জনপ্রিয় ফাস্ট ফুডও পাওয়া যায়।