তীব্র তাপদাহ আর উত্তাল ঢেউ যেন থামাতে পারছে না পর্যটকদের। দেশের সর্বদীর্ঘ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে সাপ্তাহিক ছুটিতে নেমেছে মানুষের ঢল, যেখানে নোনাজলের স্পর্শে খোঁজা হচ্ছে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন অংশে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। বালুর তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে অনেকেই খালি পায়ে হাঁটতে পারছিলেন না। বালুর উত্তাপ এড়িয়ে দ্রুত সমুদ্রের দিকে ছুটছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা।
সাগরতীরজুড়ে তখন একটাই দৃশ্য, মানুষ আর মানুষ। গরম থেকে স্বস্তি পেতে সবাই নেমে পড়েছেন পানিতে। ঢেউয়ের সঙ্গে সাগরস্নান, টিউবে ভেসে থাকা, জেট স্কি ও বিচবাইকসহ নানা বিনোদনে মেতে ওঠেন পর্যটকেরা। অনেকের মতে, সমুদ্রের পানিতে নামলেই তাপদাহের কষ্ট অনেকটাই কমে আসে।
গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক রাশেদুল হাসান বলেন, শহরের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতেই তারা সাগরের টানে এখানে এসেছেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি থাকলেও সমুদ্রের কাছে এসে তা কেটে গেছে বলে জানান তিনি। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত নিজেদের দেশে থাকায় গর্বও প্রকাশ করেন।
ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা হায়দার আলী জানান, তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতেই তারা সমুদ্রসৈকতে আসেন। তার ভাষায়, সাগরের পানিতে নামলে গরমের কষ্ট অনেকটাই কম মনে হয়।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক ফারাহ খানম বলেন, কক্সবাজারের সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তবে রোদ ও গরমের তীব্রতাও উল্লেখযোগ্য বলে জানান তিনি।
সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকের ভিড় বাড়ায় প্রাণ ফিরেছে সৈকতনির্ভর বিভিন্ন পেশায়। ফটোগ্রাফার, বিচবাইক চালক, ঘোড়াওয়ালা ও জেট স্কি চালকদের আয় বেড়েছে। পাশাপাশি বার্মিজ পণ্যের দোকানগুলোতেও বিক্রি বেড়েছে।
স্থানীয় ফটোগ্রাফার গফুর উদ্দিন বলেন, ঈদের সময়ের মতো না হলেও এখনও পর্যটকের উপস্থিতি সন্তোষজনক। এতে তাদের ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে।
বিচবাইক চালক কফিল উদ্দিন জানান, বিশেষ করে শুক্রবারে পর্যটক বেশি থাকায় আয়ের সুযোগও বাড়ে।
এদিকে, সমুদ্র উত্তাল থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে লাইফগার্ড সংস্থাগুলো। সী সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মো. ওসমান বলেন, অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামাল দিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নিয়মিত সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও যুক্ত করা হয়েছে।
পর্যটকের চাপ বাড়ায় কক্সবাজার সৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী ও পাতুয়ারটেক এলাকাতেও ট্যুরিস্ট পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে।