রোম, ভেনিস বা ফ্লোরেন্সের বাইরেও যে ইতালির আসল রূপ লুকিয়ে আছে, তা আবারও সামনে আনল ‘ইতালির সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম’ সংস্থা। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক ছোট শহর ও গ্রাম সংরক্ষণ ও প্রচারের এই উদ্যোগে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সাতটি বোরগো বা গ্রাম।
উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণের সমুদ্রঘেঁষা প্রদেশ—নতুন এই গ্রামগুলো ইতালির সেই জীবনধারার প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে ইতিহাস, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার আর ধীরগতির দৈনন্দিন জীবন এখনো অটুট। অতিরিক্ত পর্যটনের এই সময়ে, কম পরিচিত কিন্তু গভীর অভিজ্ঞতা দেওয়া এসব গ্রাম হতে পারে ভিন্ন স্বাদের ইতালি ভ্রমণের আদর্শ ঠিকানা।
লিমোনে সুল গার্দা
লেক গার্দার পশ্চিম তীরে অবস্থিত লিমোনে সুল গার্দা তুলনামূলকভাবে পরিচিত একটি গন্তব্য। গ্রীষ্মে পর্যটকের চাপ থাকলেও শহরটি টেকসই পর্যটন ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণের কারণে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
সরু পাথরের রাস্তা, রঙিন বাড়ি, পুরোনো বন্দর আর নীলচে লেক—সব মিলিয়ে শহরটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। এখানকার সবচেয়ে বড় পরিচয় লেবু চাষের ইতিহাস। ঐতিহ্যবাহী লেবু ঘরগুলো একসময় স্থানীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি ছিল। আজও ঐতিহাসিক লেবু বাগানে লেবু, কমলা ও অন্যান্য ফল চাষ দেখা যায়। লেকের ধারে হাঁটার পথ আর ছোট ছোট সৈকত শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
পিয়েভে দি টেকো
ইতালির রিভিয়েরা অঞ্চল মূলত সমুদ্রের জন্য পরিচিত হলেও এর পাহাড়ি ভেতরের অংশে লুকিয়ে আছে পিয়েভে দি টেকোর মতো গ্রাম। ত্রয়োদশ শতকে গড়ে ওঠা এই গ্রামটি তার খোলা বারান্দা ঘেরা প্রধান সড়কের জন্য বিখ্যাত।
এখানে রয়েছে ইউরোপের অন্যতম ছোট থিয়েটার, ঐতিহাসিক গির্জা ও ব্যতিক্রমী একটি মুখোশ জাদুঘর, যেখানে পাহাড়ি ও প্রাচীন লোকসংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যায়। খাবারের ক্ষেত্রেও গ্রামটির আলাদা পরিচয় আছে। এখানে সাদামাটা উপকরণ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ রান্না খুবই জনপ্রিয়।
কাস্তেলভেত্রো দি মোদেনা
মোদেনা শহরের অদূরে অবস্থিত কাস্তেলভেত্রো দি মোদেনা খাবারপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ বলা যায়। চারপাশে আঙুরের বাগান, ঐতিহ্যবাহী ওয়াইন উৎপাদন আর বিখ্যাত চিজ ও ভিনেগারের জন্য এই এলাকা সুপরিচিত।
মধ্যযুগীয় দুর্গ, প্রাচীন টাওয়ার আর শহরের প্রধান চত্বরে দাবার ছকের মতো নকশা করা মেঝে এই গ্রামের অন্যতম আকর্ষণ। এখানেই নিয়মিত আয়োজন করা হয় খাবার ও ওয়াইন উৎসব এবং ঐতিহাসিক পোশাকে অভিনীত মানব দাবা খেলা।
কুসানো মুত্রি
ব্যস্ত সমুদ্রতীর থেকে অনেক দূরে, ক্যাম্পানিয়ার পাহাড়ে অবস্থিত কুসানো মুত্রি যেন সময়ের মধ্যে আটকে থাকা এক গ্রাম। পাথরের সরু গলি, খাড়া সিঁড়ি, খিলান আর পুরোনো ঘরবাড়ি গ্রামটিকে সিনেমার লোকেশনের মতো করে তুলেছে।
এখানে রয়েছে ত্রয়োদশ শতকের দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখা বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক গির্জা। গ্রীষ্মে ফুলের উৎসব এবং শরতে দীর্ঘদিনব্যাপী মাশরুম উৎসব গ্রামটির সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রিভেল্লো
বাসিলিকাতা অঞ্চলের রিভেল্লো একটি পাহাড়ে নয়, বরং তিনটি পাহাড়জুড়ে বিস্তৃত। সমুদ্র থেকে কাছাকাছি হওয়ায় এখান থেকে নীল জলরাশির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।
এই শহরের বিশেষত্ব হলো দুটি ভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ধারা। একদিকে রোমান ও লাতিন প্রভাব, অন্যদিকে বাইজেন্টাইন ঐতিহ্য। ফলে এখানে রয়েছে ভিন্ন ধাঁচের গির্জা ও উপাসনালয়, যা শহরের ইতিহাসকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
বিশেষ সম্মানপ্রাপ্ত গেস্ট গ্রাম
দ্বাদশ শতকে গড়ে ওঠা এই এলাকা বিইয়েলা শহরের সবচেয়ে পুরোনো অংশ। উল ও কাশ্মীর উৎপাদনের দীর্ঘ ঐতিহ্যের জন্য শহরটি বিশেষভাবে পরিচিত।
বর্গো ভেক্কিও, তেরমোলি
মোলিসে অঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী শহর তেরমোলির পুরোনো অংশ বর্গো ভেক্কিও একটি উঁচু প্রমোন্টরিতে অবস্থিত। প্রবেশপথে রয়েছে ত্রয়োদশ শতকের এক ঐতিহাসিক দুর্গ, যা দক্ষিণ ইতালির মধ্যযুগীয় ইতিহাসের সাক্ষী।