আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের তরুণদের সাফল্যের গল্প নতুন নয়। তবে প্রত্যন্ত কুড়িগ্রাম থেকে উঠে এসে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি পাওয়া নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা যোগ করে। লন্ডনভিত্তিক ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার ২০২৫ প্রতিযোগিতার একটি বয়সভিত্তিক শাখায় রানারআপ হয়ে সেই গল্পেই নিজের নাম লিখিয়েছেন কুড়িগ্রামের কলেজছাত্র কাবিউর রহমান।
গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিযোগিতার ২৩তম আসরের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে বিশ্বের ১৬০টি দেশ থেকে জমা পড়ে ২০ হাজারের বেশি ছবি। পেশাদার শাখায় সম্মিলিতভাবে সেরা হন গ্রিসের আলোকচিত্রী আথানাসিওস মালুকোস। নবীন আলোকচিত্রী শাখায় সেরা নির্বাচিত হয় যুক্তরাজ্যের ১০ বছর বয়সী জেমি স্মার্ট। আর ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শাখায় রানারআপ হন বাংলাদেশের কাবিউর রহমান। ওই শাখায় বিজয়ী হয়েছে রোমানিয়ার ১৫ বছর বয়সী মাতেই মারাচিনেয়ানু।
কাবিউর নিয়মিত আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার খবর রাখেন। গত বছরের মার্চে ইনস্টাগ্রামে প্রতিযোগিতাটির ছবি আহ্বানের বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী হন তিনি। বিষয়বস্তু ও নিয়ম দেখে সিদ্ধান্ত নেন অংশ নেওয়ার। নিজের তোলা কয়েকটি ছবি পাঠানোর পর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। নভেম্বরে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নেয় তার ছবি। এরপর ভোট গ্রহণ শেষে জানুয়ারিতে আসে কাঙ্ক্ষিত ফল।
রানারআপ হিসেবে নির্বাচিত চারটি ছবিতেই ফুটে উঠেছে কুড়িগ্রামের নদী, চর, শ্রমজীবী মানুষ ও শিশুরা। সূর্যাস্তের আলোয় ব্রহ্মপুত্র নদীর নৌকা, তিস্তার বালুচরে ফুটবল খেলা কিশোরদের দৃশ্য বা নির্মাণাধীন সেতুতে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের মুহূর্ত আলাদা করে নজর কাড়ে।
কাবিউর রহমান কাছের মানুষদের কাছে রিয়াদ নামে পরিচিত। স্কুলজীবনেই ছবি তোলার নেশা ধরে তার। মায়ের ব্যবহৃত ক্যামেরাই ছিল শুরু। পরে আগ্রহ দেখে মা নিজেই ক্যামেরা কিনে দেন। চিলমারীসহ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ছবি তুলতে থাকেন তিনি।
চিলমারী থেকে এসএসসি পাস করে বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ছেন কাবিউর। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতিকে নিজের পথচলার বড় অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখছেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার স্বপ্ন তার চোখে।