পাকিস্তানের উত্তর প্রান্তে এমন একটি জায়গা আছে, যেখানে পাহাড়, হ্রদ আর নীল আকাশ একসঙ্গে মিলে প্রকৃতিকে করে তুলেছে অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর। সেই জায়গার নাম স্কার্দু। কারাকোরাম আর হিমালয় পর্বতমালার মাঝখানে অবস্থিত এই শহরটি এখন বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে। শান্ত পরিবেশ, তুষারঢাকা শৃঙ্গ আর ফিরোজা রঙের জলরাশি স্কার্দুকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।
গিলগিট বালটিস্তান অঞ্চলের স্কার্দু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। শিগর নদী ও সিন্ধু নদের মিলনস্থলে গড়ে ওঠা এই শহরকে বলা হয় কে টু অভিযানের প্রবেশদ্বার। এখান থেকেই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে টু জয় করতে যাত্রা শুরু করেন পর্বতারোহীরা।
স্কার্দু শুধু পাহাড় দেখার জায়গা নয়। এখানেই রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম মালভূমি দেওসাই। গ্রীষ্মকালে এই বিস্তীর্ণ সমভূমি রঙিন বুনো ফুলে ঢেকে যায়। খোলা আকাশের নিচে নীল পানির শেওসার লেক দেওসাইয়ের অন্যতম আকর্ষণ। রাতে এখানে তারাভরা আকাশ আর মিল্কিওয়ে খালি চোখে দেখা যায়।
স্কার্দুর আরেক বিস্ময় কাটপানা কোল্ড ডেজার্ট। এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঠান্ডা মরুভূমি। সোনালি বালিয়াড়ির পেছনে বরফঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য সত্যিই বিরল। সূর্যাস্তের সময় এই এলাকা ফটোগ্রাফারদের স্বর্গে পরিণত হয়।
হ্রদের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে যেতে হবে শাংরিলা বা কাচুরা লেকে। গভীর নীল পানির এই হ্রদ পাহাড়ে ঘেরা। পাশেই রয়েছে বিখ্যাত শাংরিলা রিসোর্ট। বসন্তকালে আশপাশের এপ্রিকট ও আপেল গাছে ফুল ফোটে, তখন পুরো এলাকা আরও রঙিন হয়ে ওঠে। কাছেই সাতপারা লেক, যেখানে পাহাড়ের প্রতিফলন পানিতে পড়ে অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে।
ইতিহাস ও সংস্কৃতির দিক থেকেও স্কার্দু সমৃদ্ধ। বালটি জনগোষ্ঠীর বসবাস এখানে। তাদের ভাষা, স্থাপত্য আর জীবনযাত্রায় তিব্বতি প্রভাব স্পষ্ট। মানথাল বুদ্ধ রক অষ্টম শতাব্দীর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। শহরের ওপর পাহাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা খারপোচো দুর্গ থেকেও পুরো স্কার্দু এক নজরে দেখা যায়।
ভ্রমণের জন্য মে থেকে সেপ্টেম্বর সময়টা সবচেয়ে ভালো। এই সময় আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে এবং সব দর্শনীয় স্থানে যাওয়া সম্ভব হয়। ইসলামাবাদ থেকে বিমানে মাত্র এক ঘণ্টায় স্কার্দু পৌঁছানো যায়। সড়কপথেও যাওয়া যায়, তবে পাহাড়ি রাস্তা হওয়ায় সময় বেশি লাগে।