ভ্রমণ মানেই শুধু নতুন শহর বা নতুন দৃশ্য নয়। কখনও কখনও ভ্রমণ মানে সময়ের ভেতর ঢুকে পড়া। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের কিছু হোটেল ও অতিথিশালায় পা রাখলেই মনে হয়, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে গেছে কয়েক শতক। কোথাও টিউডর যুগের রাজকীয় পরিবেশ, কোথাও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি, আবার কোথাও রঙিন সিক্সটিজ বা ঝলমলে নাইন্টিজের নস্টালজিয়া। ইতিহাস, নকশা আর গল্পে ভরা এমনই ১০টি অনন্য স্টে নিয়ে এই ফিচার।
ইউরোপ
১. ব্রাউনিং দম্পতির ফ্ল্যাট
ফ্লোরেন্স, ইতালি
ফ্লোরেন্সের কেন্দ্রস্থলে ১৫ শতকের ভবন কাসা গুইদি। ১৮৪৭ সালে কবি এলিজাবেথ ব্যারেট ব্রাউনিং ও রবার্ট ব্রাউনিং এখানে বাস শুরু করেন এবং এখানেই কাটে তাঁদের জীবনের শেষ দিনগুলো। পারিবারিক চিঠি, চিত্রকর্ম ও তালিকার ভিত্তিতে অ্যাপার্টমেন্টটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ব্রাউনিং দম্পতির সংগ্রহ করা শিল্পকর্ম, ড্রয়িংরুমের আসল আয়না ও ঐতিহাসিক সাজই এর মূল আকর্ষণ।
২. ইন্টারওয়ার যুগের ক্রাকোভ
ক্রাকোভ, পোল্যান্ড
পুরনো শহরের পিউরো হোটেল সাজানো হয়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ের ক্রাকোভের ক্যাফে সংস্কৃতি মাথায় রেখে। কাঠের প্যানেল, প্রাকৃতিক পাথর, হাতে তৈরি কাচ ও স্থানীয় শিল্পকর্ম পুরো হোটেলজুড়ে। রুমে রেট্রো রেডিও ও বাউহাউস স্টাইল আসবাব সময়ভ্রমণের অনুভূতি জাগায়।
৩. সত্তরের দশকের পাহাড়ি হোটেল
স্কোভডে, সুইডেন
১৯৭০ সালে পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি বিলিংহুস হোটেল ছিল বিশ্রাম ও শরীরচর্চার মিলনস্থল। আধুনিক সংস্কারের পর যোগ হয়েছে স্পা, তবে ৭০-এর দশকের ভেলভেট সোফা ও রেট্রো নকশা রাখা হয়েছে অক্ষত। কিছু রুমে এখনো আছে রেকর্ড প্লেয়ার ও ডিস্কো বল।
৪. এটনার ঢালে ১৭ শতকের পালাজ্জো
লিঙ্গুয়াগ্লোসা, সিসিলি
১৬৪৯ সালে তৈরি পালাজ্জো প্রেভিতেরা সিসিলির ৫০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী। মূল মালিকদের উত্তরসূরিরাই এটি সংস্কার করেছেন। ভেতরে রয়েছে জাদুঘর, দুর্লভ বইয়ের লাইব্রেরি এবং ঐতিহাসিক খিলানঘেরা রেস্টুরেন্ট। রুমগুলোতে প্রাচীন ছাদচিত্র আর বিভিন্ন যুগ থেকে অনুপ্রাণিত নকশা।
৫. সিক্সটিজের রঙিন প্রাগ
প্রাগ, চেক রিপাবলিক
ভিনটেজ ডিজাইন স্যাক্স হোটেল যেন ষাটের দশকের ডিজাইন জাদুঘর। ভের্নার প্যান্টন, ইমস দম্পতি ও সারিনেনের আসবাব, সাইকেডেলিক ওয়ালপেপার আর কমলা রঙের বিছানাপত্র পুরো জায়গাকে ফিরিয়ে নেয় সিক্সটিজে।
৬. জর্জিয়ান যুগের কটেজ
বিমিশ, কাউন্টি ডারহাম
বিমিশ ওপেন-এয়ার মিউজিয়ামের ভেতরে তৈরি দুটি জর্জিয়ান কটেজ। পাথরের মেঝে, খোলা আগুনের চুলা, চার খুঁটির বিছানা আর ঐতিহাসিক আসবাবে সাজানো এই কটেজে থাকার সঙ্গে মিউজিয়াম ঘোরার সুযোগও থাকে।
৭. টিউডর আমলের দুর্গে রাত
কনউই, ওয়েলস
গুইদির ক্যাসেল একসময় ওয়েলসের রাজবংশের সম্পত্তি ছিল। আজও এটি ব্যক্তিগত বাড়ি, তবে দুটি রাজকীয় কক্ষে অতিথিদের থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। অ্যান্টিক আসবাব, বাগানের দৃশ্য আর ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা পুরো অভিজ্ঞতাকে রাজকীয় করে তোলে।
৮. নাইন্টিজের কুল ব্রিটানিয়া
ওয়েমাউথ, ডরসেট
লিটল ন্যানস হলিডে হোম পুরোপুরি নব্বইয়ের দশকের ব্রিটিশ পপ কালচারের প্রতি শ্রদ্ধা। উজ্জ্বল রঙ, নীয়ন আলো, কিচে ডেকর আর পপ আইকনের রেফারেন্সে ভরা এই বাড়ি নস্টালজিয়া ভালোবাসাদের জন্য।
৯. ভিক্টোরিয়ান স্যুট, মধ্যযুগীয় ভবনে
ডোভার, কেন্ট
৮০০ বছরের পুরনো মেজঁ দ্যু ভবনের ভেতরে অবস্থিত মেয়রস পার্লার। ১৯ শতকের গথিক রিভাইভাল নকশার এই স্যুটে আছে অলঙ্কৃত ছাদ, রঙিন টাইলস ও ঐতিহাসিক ফার্নিচার। একই সঙ্গে মধ্যযুগ ও ভিক্টোরিয়ান যুগের অভিজ্ঞতা দেয় জায়গাটি।
১০. যুদ্ধের কন্ট্রোল টাওয়ারে বি অ্যান্ড বি
নরফোক
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিমানঘাঁটির কন্ট্রোল টাওয়ার আজ শান্ত নিরামিষ বি অ্যান্ড বি। ১৯৪০-এর দশকের আর্ট ডেকো আসবাব, ঐতিহাসিক ছবি ও বইয়ে সাজানো এই জায়গায় নেই টিভি, আছে নীরবতা আর সময়ের গল্প।