নতুন বছরে কোথায় যাবেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেক ভ্রমণপ্রেমী। সেই তালিকায় সহায়তা করতেই ২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য বিশ্বের সেরা ২০টি গন্তব্যের তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি ট্রাভেল। এই তালিকায় জায়গা পেয়েছে ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা ও ওশেনিয়ার এমন সব স্থান, যেখানে ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিবেশ ও কমিউনিটির ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখা সম্ভব।

বিবিসির এই তালিকা তৈরিতে অংশ নিয়েছেন সংস্থাটির সাংবাদিক, বিশ্বস্ত ভ্রমণ লেখক ও টেকসই পর্যটন বিশেষজ্ঞরা। লক্ষ্য একটাই, এমন গন্তব্য তুলে ধরা, যেখানে পর্যটন শুধু দর্শনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবন ও ঐতিহ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
আবুধাবি
২০২৬ সাল আবুধাবির জন্য বড় সাংস্কৃতিক মোড়। সাদিয়াত কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে খুলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল আর্ট মিউজিয়াম টিমল্যাব ফেনোমেনা ও জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম। পাশাপাশি ইয়াস আইল্যান্ডে থিম পার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের ডিজনিল্যান্ড প্রকল্প শহরটিকে নতুন রূপ দিচ্ছে।

আলজেরিয়া
দীর্ঘদিন ভিসা জটিলতায় আড়ালে থাকা আলজেরিয়া ধীরে ধীরে খুলছে। ভিসা অন অ্যারাইভাল, নতুন অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন আর ঐতিহ্য সংরক্ষণ উদ্যোগ দেশটিকে ২০২৬ সালের অন্যতম চমকপ্রদ গন্তব্য বানিয়েছে। টিমগাদ ও জেমিলার রোমান ধ্বংসাবশেষ এখনো প্রায় ভিড়হীন।
চিলির কোলচাগুয়া ভ্যালি
সান্তিয়াগোর দক্ষিণে এই উপত্যকা শুধু ওয়াইন নয়, গ্রামীণ সংস্কৃতি আর নক্ষত্র দেখার অভিজ্ঞতাও দেয়। ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চিলির ঐতিহাসিক ওয়াইন রুট নতুন করে পর্যটকদের টানছে।
কুক আইল্যান্ডস
কম ভিড়, উষ্ণ মানুষ আর শক্তিশালী পরিবেশ সুরক্ষা নীতির কারণে কুক আইল্যান্ডস ২০২৬ সালে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই পলিনেশিয়ান স্বর্গকে আরও সহজলভ্য করছে।
কোস্টারিকা
জীববৈচিত্র্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত কোস্টারিকা আরও সবুজ হতে যাচ্ছে। জঙ্গল করিডোর, সামুদ্রিক সুরক্ষা আর কমিউনিটি পরিচালিত ইকো লজ ২০২৬ সালের ভ্রমণকে অর্থবহ করে তুলবে।
স্কটল্যান্ডের হেব্রিডস
প্রাচীন পাথরের বৃত্ত, সাদা বালুর সৈকত আর হুইস্কি ডিস্টিলারির নতুন অধ্যায় হেব্রিডসকে আবার আলোচনায় এনেছে। ২০২৬ সালে এখানে খুলছে নতুন ভিজিটর সেন্টার ও ডিস্টিলারি।
জাপানের ইশিকাওয়া
ভূমিকম্প পরবর্তী পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পর্যটকদের আহ্বান জানাচ্ছে ইশিকাওয়া। স্থানীয় হোমস্টে, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প আর সাকে সংস্কৃতি এখানে ভ্রমণকে মানবিক অর্থ দেয়।
কমোডো দ্বীপপুঞ্জ
বিশাল কমোডো ড্রাগন আর প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে ২০২৬ সালে। নিয়ন্ত্রিত পর্যটনই এখানে মূল আকর্ষণ।

মেক্সিকোর লোরেতো
গালফ অব ক্যালিফোর্নিয়ার এই ছোট শহর তিমি দেখা, কায়াকিং আর সংরক্ষণভিত্তিক পর্যটনের জন্য পরিচিত। নতুন দুটি জাতীয় উদ্যান লোরেতোর প্রকৃতি ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
মন্টেনেগ্রো
বে অব কোটরের ফিয়র্ডের মতো উপসাগর আর পাহাড়ি গ্রাম মন্টেনেগ্রোকে ক্রোয়েশিয়ার বিকল্প গন্তব্য বানিয়েছে। ২০২৬ সালে দেশটির ২০ বছর পূর্তি বিশেষ গুরুত্ব যোগ করছে।
ওরেগন কোস্ট, যুক্তরাষ্ট্র
৩৭০ মাইল দীর্ঘ উপকূলজুড়ে পাহাড়, বাতিঘর আর পাবলিক সৈকত ওরেগন কোস্টকে অনন্য করে তুলেছে। নতুন শাটল সার্ভিস ও ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক ভ্রমণ সহজ করছে।
ওউলু, ফিনল্যান্ড
ইউরোপের ক্যাপিটাল অব কালচার ২০২৬ হিসেবে ওউলুতে বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক উৎসব, শিল্প প্রদর্শনী আর আর্কটিক খাবারের আয়োজন থাকছে।
ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফিলাডেলফিয়ায় ইতিহাসভিত্তিক উৎসব, মুরাল আর বড় ক্রীড়া আয়োজন পর্যটকদের টানবে।
নম পেন, কম্বোডিয়া
নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আধুনিক ক্যাফে আর নদীপাড়ের ওয়াকওয়ে নম পেনকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন ট্রাভেল হটস্পটে পরিণত করছে।
গিমারায়েস, পর্তুগাল
পর্তুগালের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত এই শহর ২০২৬ সালের ইউরোপিয়ান গ্রিন ক্যাপিটাল। ঐতিহাসিক স্থাপনার সঙ্গে টেকসই নগর পরিকল্পনার মেলবন্ধন এখানে মূল আকর্ষণ।
সামবুরু, কেনিয়া
ভিড়হীন সাফারি, বিরল প্রাণী আর নতুন অ্যাস্ট্রো ট্যুরিজম প্রকল্প সামবুরুকে আলাদা করে তুলছে। কমিউনিটি পরিচালিত লজ এখানকার শক্তি।
সান্তো ডোমিঙ্গো ডোমিনিকান রিপাবলিক
ক্যারিবিয়ান গেমস আয়োজনের কারণে শহরজুড়ে সংস্কার ও উৎসবের আমেজ। ঐতিহাসিক জোনা কলোনিয়াল ও সঙ্গীত উৎসব ভ্রমণকারীদের টানছে।
স্লোকান ভ্যালি, কানাডা
নতুন জাপানিজ কানাডিয়ান লেগেসি ট্রেইল ইতিহাস ও প্রকৃতিকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ দিচ্ছে। পাহাড়, হট স্প্রিং আর লেক এই অঞ্চলকে শান্ত ভ্রমণের গন্তব্য বানিয়েছে।
উলুরু, অস্ট্রেলিয়া
আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্রিক নতুন সিগনেচার ওয়াক ট্রেইল উলুরুকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ দিচ্ছে। এখানে ভ্রমণ মানেই প্রকৃতির প্রতি সম্মান।
উরুগুয়ে
মন্টেভিডিওর ট্যাঙ্গো, কলোনিয়ার ঐতিহ্যবাহী শহর আর সমুদ্রতীরের লেগুন উরুগুয়েকে দক্ষিণ আমেরিকার টেকসই ও নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।