মার্কিন ভিসা না পাওয়ায় মাঠে বসে খেলা দেখার স্বপ্ন ভেঙে গেছে অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থকের। তবে তাদের জন্য এসেছে এক অভিনব ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’। সেটা হলো—বিনামূল্যে একটি নতুন টেলিভিশন।

আর্জেন্টিনার বহুজাতিক কোম্পানি নিউজ্যান ঘোষণা দিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারলে প্রথম ১০০ জনকে স্থানীয় ব্র্যান্ড নোবলেক্সের একটি করে টেলিভিশন উপহার দেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে,  এই ঘোষণার পর বুধবার প্রতিষ্ঠানটির বুয়েনস আইরেস কার্যালয়ের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল, “আপনার প্রত্যাখ্যাত ভিসা নিয়ে আসুন, আর একটি ফ্রি টিভি নিয়ে যান।”

টেলিভিশন পাওয়া একজন ছিলেন ২৪ বছর বয়সী পেশাদার ভিডিও গেম খেলোয়াড় টমাস ভেগেলার। তিনি বলেন, “আমরা সবাই ভেবেছিলাম এটি হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ হবে, তাই ভিসার জন্য আবেদন করেছিলাম। খেলা সরাসরি দেখতে না পারাটা খুবই দুঃখের, তবে অন্তত একটি উপহার নিয়ে ফিরছি।”

তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনাতে সাধারণত বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সেই আবহ কিছুটা ম্লান বলে মনে করছেন অনেকে।

এর বিপরীতে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে দেশজুড়ে ছিল তুমুল উত্তেজনা। অনেকেই মনে করেছিলেন সেটিই হয়তো লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। সেই আসরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা তাদের অভিযান শুরু করেছে ১৭ জুন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ ‘জে’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া এবং বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া জর্ডান।

এবারের বিশ্বকাপে শুধু সমর্থকরাই নয়, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারাও ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সীমান্ত ও অভিবাসন নীতির কারণে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রবেশে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে ইরান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে দেশটির সমর্থকদের টিকেট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং দলটিকেও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে তাদের বেস ক্যাম্প স্থাপন করতে হয়েছে, যদিও গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ ছাড়া হাইতির সমর্থক, ইরাকের কর্মকর্তারা, ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থার প্রধান, সোমালিয়ার রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতান এবং সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো-ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে জটিলতা বা প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছেন।