বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে। মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই নেতা শিক্ষা ও পর্যটনকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বৈঠকে তাদের ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে দুই দেশ একাডেমিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দুই দেশ পারস্পরিক স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে, যা পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বৈঠকে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মালয়েশিয়া তাদের ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানায়।
বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা পর্যটনের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া পরিচিত। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক হাসপাতাল, তুলনামূলক সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যয় এবং সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক চিকিৎসা ও অবকাশযাপনের জন্য দেশটি সফর করেন।
এ ছাড়া কুয়ালালামপুর, লাংকাউই, পেনাং, সাবাহ ও সারাওয়াকের মতো জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের কাছেও দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণীয়। বৈঠকে দুই দেশ পর্যটন উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে সম্মতি জানায়।