ইতালির উত্তর উপকূলীয় শহর ট্রিয়েস্টের ঐতিহাসিক ‘পেদোচিন’ সৈকতে এক নারী পর্যটকের আচরণকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপের একমাত্র লিঙ্গভিত্তিক বিভক্ত সৈকত হিসেবে পরিচিত এই সৈকতে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত অংশে প্রবেশ এবং পরে সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোকে ঘিরে ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় সংস্কৃতি ও আধুনিক পর্যটন ভাবনার সংঘাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলান থেকে আসা এক তরুণী তাঁর সঙ্গীকে নিয়ে ট্রিয়েস্টের স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘পেদোচিন’ সৈকতে বেড়াতে যান। বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তিনি সৈকতের পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত অংশে গিয়ে বসেন।

এ সময় ৫০ বছর বয়সী এক নারী তাঁকে নিয়ম মেনে অন্য অংশে যেতে অনুরোধ করেন। ওই নারী সাময়িকভাবে তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বামীর সাহায্য চাইতে পুরুষদের অংশে প্রবেশ করেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৈকতের নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পর্যটক তরুণী। তিনি নিয়মটিকে ‘মধ্যযুগীয়’ ও ‘পশ্চাৎপদ’ বলে অভিহিত করেন এবং প্রতিবাদকারী নারীকে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘লিঙ্গবাদী’ বলে মন্তব্য করেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আপনারা মধ্যযুগে বাস করছেন। এটি সরাসরি বৈষম্য। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত। যদি এমন নিয়মই থাকে, তবে আপনারা ইতালীয় নাগরিক হওয়ার যোগ্য নন।”

পরিস্থিতি পরে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তরুণীটি বয়স্ক নারীর দিকে তেড়ে যান এবং হাত তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় সৈকতের এক নারী কর্মীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। উপস্থিত কয়েকজন পুরুষ হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার পর পর্যটক দম্পতি সৈকত ত্যাগ করেন। তবে তাঁরা প্রবেশ ফি হিসেবে পরিশোধ করা ২ দশমিক ৪০ ইউরো ফেরত দাবি করেন।

শত বছরের বেশি পুরোনো এক ব্যতিক্রমী সৈকত

‘আল্লা ল্যান্টার্না’ নামের এই সৈকত স্থানীয়ভাবে ‘পেদোচিন’ নামে পরিচিত। একটি বড় দেয়াল দিয়ে সৈকতটি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একপাশে নারী ও ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, অন্যপাশটি পুরুষদের জন্য নির্ধারিত।

দুই অংশের মানুষের সরাসরি সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ। কেউ দেখা করতে চাইলে সমুদ্রে নির্ধারিত একটি বয়া পর্যন্ত সাঁতরে যেতে হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই নিয়ম চালু রয়েছে।

স্থানীয় অনেক নারী এই ব্যবস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তাঁদের মতে, এতে তারা পুরুষদের উপস্থিতি বা দৃষ্টির চাপ ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে সূর্যস্নান উপভোগ করতে পারেন।

শহরের কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত পাথুরে এই সৈকতটি ট্রিয়েস্টের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ইতিহাস ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে ২০১৬ সালে একটি তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছিল।

সাম্প্রতিক ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্থানীয় ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভিন্ন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাতে কখনো কখনো জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্যেও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।