বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে অবস্থিত মূরনখল ট্রেইল এখন ধীরে ধীরে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ভ্রমণকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে আসছে। পাহাড়, ঝিরি, সংকীর্ণ পাথুরে গিরিখাত, ছোট ছোট ঝরনা এবং ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই ট্রেইল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য যেমন অনন্য, তেমনি চ্যালেঞ্জিং পথচলারও এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তবে দুর্গম হওয়ায় এখানে ভ্রমণের আগে প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি ও স্থানীয় গাইডের সহায়তা।
ঢাকা থেকে বান্দরবান হয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর শুরু হয় পাহাড়ি পথের যাত্রা। তারাছা নদীর তীরবর্তী কচ্ছপতলী থেকে স্থানীয় গাইডের সহায়তায় মূরনখলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ভ্রমণকারীরা।
ট্রেইলের শুরুতে তুলাপাড়ার মুড়া পর্যন্ত স্থানীয় যানবাহনে যেতে হয়। এরপর কাজুবাদামের বাগান পেরিয়ে ম্রক্ষং ঝিরি ধরে শুরু হয় মূল ট্রেইল। প্রথমদিকে পথ তুলনামূলক সহজ মনে হলেও ধীরে ধীরে এটি রূপ নেয় দুর্গম পাহাড়ি অভিযানে। পথে দেখা মেলে ছোট্ট একটি ঝরনার, যেখানে পৌঁছাতে খাড়া ও পিচ্ছিল ঢাল বেয়ে নিচে নামতে হয়। সতর্কতা অবলম্বন না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
ট্রেইলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ শুরু হয় দুই পাহাড়ের মাঝের সংকীর্ণ গিরিখাত থেকে। কোথাও কোমরসমান, কোথাও বুকসমান পানি পেরোতে হয়। কিছু অংশে সাঁতারও কাটতে হতে পারে। পানির নিচে ছড়িয়ে থাকা পাথর, দুই পাশের উঁচু পাহাড় আর ঘন লতাগুল্মে ঘেরা পরিবেশ পুরো পথটিকে করে তুলেছে রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর।
ট্রেইলের কিছু অংশ এতটাই সংকীর্ণ যে একসঙ্গে একজনের বেশি চলাচল করা কঠিন। উঁচু পাহাড়ের কারণে কোথাও কোথাও সূর্যের আলোও খুব কম পৌঁছায়। প্রায় ঘণ্টাখানেকের এই দুর্গম পথ অতিক্রম করে খামারপাড়া এলাকায় গিয়ে ট্রেইলের সমাপ্তি ঘটে।
ভ্রমণসংশ্লিষ্টদের মতে, বান্দরবানের এই ধরনের ট্রেইলগুলোতে স্থানীয় গাইড ছাড়া প্রবেশ করা উচিত নয়। বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধি ও পাথর পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই আবহাওয়া বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা জরুরি।
যেভাবে যাবেন
প্রথমে ঢাকা থেকে বান্দরবান শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্থানীয় গাইডের সহায়তায় মূরনখল ট্রেইলে যাত্রা করা যায়।
থাকা ও খাওয়া
কচ্ছপতলী এলাকায় সাধারণ মানের বোর্ডিং ও স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। দুর্গম এলাকায় যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার ও পর্যাপ্ত পানীয় পানি সঙ্গে রাখা ভালো।
ভ্রমণ সতর্কতা
জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
অবশ্যই স্থানীয় অনুমোদিত গাইড নিন।
ট্রেকিং উপযোগী জুতা ব্যবহার করুন।
প্রয়োজনীয় ওষুধ, শুকনা খাবার ও পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখুন।
স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান।
বর্ষাকালে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।
তথ্যবক্স
অবস্থান: রোয়াংছড়ি, বান্দরবান
উপযোগী ভ্রমণ: শুষ্ক মৌসুম
ভ্রমণের ধরন: ট্রেকিং ও অ্যাডভেঞ্চার
বিশেষ আকর্ষণ: ঝিরি, ঝরনা, সংকীর্ণ গিরিখাত, পাহাড়ি বনাঞ্চল