সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা তুলে নেওয়ার পর আবারও পর্যটকদের কাছে দুবাই ভ্রমণের আগ্রহ বেড়েছে।
এরই মধ্যে শহরটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা লিখেছে ডেইলি মেইল।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২৩.৬ বিলিয়ন পাউন্ড। দুবাই সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোচ্ছে।
প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিমানবন্দরটি ২০৩২ সালে চালু হওয়ার কথা। সম্পূর্ণ নির্মাণ শেষ হলে এটি বছরে ২৬ কোটি যাত্রীকে সেবা দিতে পারবে, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরে পরিণত করবে।
থাকবে না দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা
এত বিপুল সংখ্যক যাত্রী সামলানোর জন্য বিমানবন্দরটিতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে না হয়।
টার্মিনাল ও কনকোর্সের মধ্যে চলাচলের জন্য থাকবে চালকবিহীন ছোট স্বয়ংক্রিয় ট্রেন।
এছাড়া প্রচলিত বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতাও বদলে যেতে পারে। যাত্রীরা টার্মিনালে পৌঁছানোর আগেই লাগেজ জমা দিতে পারবেন এবং পথে আসার সময়ই চেক-ইনের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
‘ননস্টপ’ বিমানবন্দর অভিজ্ঞতা
দুবাই এয়ারপোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পল গ্রিফিথস আগে এই পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,
“আমরা চাই, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের খুব অল্প পথ হাঁটতে হোক। তাদের যেন ইমিগ্রেশন, চেক-ইন, নিরাপত্তা পরীক্ষা বা কাস্টমসের জন্য কোথাও থামতে না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “যাত্রীরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবেন কোথায় থামবেন, কেনাকাটার জন্য দোকানে, খাবারের জন্য রেস্তোরাঁয় বা বিশ্রামের জন্য লাউঞ্জে।”
এর ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা হবে যতটা সম্ভব নিরবচ্ছিন্ন ও ঝামেলামুক্ত।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও স্থানান্তর হবে
বর্তমানে বছরে প্রায় ৯ কোটি যাত্রী পরিচালনা করা দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম ধীরে ধীরে আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানান্তর করা হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
আধুনিক নকশা ও সবুজ পরিবেশ
প্রকাশিত নকশায় দেখা যায়, বিমানবন্দরটির বাইরের অংশ হবে সাদা রঙের আধুনিক স্থাপত্যে নির্মিত, চারপাশ থাকবে সবুজ গাছপালায় ঘেরা।
ভেতরে থাকবে খেজুরগাছ, সুপরিকল্পিত ল্যান্ডস্কেপ এবং বিশাল সাদা খিলান, যা যাত্রীদের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করবে।
দুবাইয়ের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গড়ার প্রকল্প
দুবাই এয়ারপোর্টসের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম এই প্রকল্পকে দুবাইয়ের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্পগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন।
তার ভাষায়, “এটি আমাদের নেতৃত্বের দীর্ঘমেয়াদি সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন, যার লক্ষ্য বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত বাড়তে থাকা ভ্রমণ, বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার চাহিদা পূরণ করা।”
বর্তমানে প্রকল্পটি বৃহৎ পরিসরের নির্মাণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
নির্মাণকাজে ব্যাপক কর্মসংস্থান
গত ১৫ মাসে এই প্রকল্পে এক কোটিরও বেশি কর্মঘণ্টা ব্যয় হয়েছে।
বর্তমানে নির্মাণস্থলে প্রায় ৯ হাজার কর্মী কাজ করছেন। তবে নির্মাণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু যাত্রী নয়, কার্গো পরিবহনেও বিশাল সক্ষমতা
বিমানবন্দরটি পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টন বিমান কার্গো পরিবহন করতে পারবে।
পাঁচটি রানওয়ে ও ৪০০টি গেট
দুবাই সাউথ এলাকায় অবস্থিত আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রথমে ২০১০ সালে কার্গো ফ্লাইটের জন্য চালু হয়। পরে ২০১৩ সালে যাত্রীবাহী ফ্লাইটও পরিচালনা শুরু করে।
বর্তমানে বিশাল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সম্প্রসারণ শেষে বিমানবন্দরটিতে থাকবে পাঁচটি সমান্তরাল রানওয়ে এবং ৪০০টি উড়োজাহাজ গেট।
দুবাই মেট্রো ও বাসের মাধ্যমে সহজেই বিমানবন্দরটিতে পৌঁছানো যাবে। পাশাপাশি আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল, যা পর্যটকদের জন্য ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করে তুলবে।