বর্ষা এলেই নতুন প্রাণ ফিরে পায় সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। বিস্তীর্ণ জলরাশি, হিজল-করচের সারি আর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দেশজুড়ে আসা পর্যটকেরা। তবে পর্যটনের এই উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি বাড়ছে পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্বেগও। প্রশাসনের মতে, দায়িত্বশীল ভ্রমণ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমির পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বর্ষা মৌসুমে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিস্তীর্ণ স্বচ্ছ জলরাশি, হিজল-করচ গাছের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং নৌভ্রমণের আকর্ষণে প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু এখানে আসছেন।

তবে পর্যটকের এই বাড়তি চাপের নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিদিন হাওরে চলাচল করছে অসংখ্য হাউজবোট ও ইঞ্জিনচালিত ছোট-বড় নৌযান। এসব নৌযানের জ্বালানি ও শব্দদূষণের পাশাপাশি পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে হাওরের পানি ও পরিবেশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, টাঙ্গুয়ার হাওর আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জলাভূমি। এটি অসংখ্য দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি, মাছ এবং জলজ উদ্ভিদের নিরাপদ আবাসস্থল। ফলে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ও দূষণ দীর্ঘমেয়াদে এ এলাকার জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে পর্যটকদের অভিযোগ, হাওরে যাতায়াতের সড়ক যোগাযোগ এখনো পর্যাপ্ত উন্নত নয়। ফলে ভ্রমণের সময় নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, "টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের নিয়ম মানতেই হবে। এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাওরের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, বর্ষা ও শীত, দুই মৌসুমেই বিপুলসংখ্যক পর্যটক টাঙ্গুয়ার হাওরে আসেন। তবে বাইরে থেকে আসা অনেক পর্যটক নিয়ম সম্পর্কে জানেন না, আবার কেউ কেউ জেনেও তা মানেন না।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

• বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে।
• অনিয়ন্ত্রিত হাউজবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌযান পরিবেশের জন্য হুমকি।
• প্লাস্টিক বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে হাওরের পানি।
• জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান।
• দায়িত্বশীল পর্যটন নিশ্চিত করার আহ্বান প্রশাসনের।