কম খরচে ভ্রমণের পরিকল্পনা যারা করেন, তাদের জন্য সাশ্রয়ী ভ্রমণগন্তব্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ভ্রমণসেবা কোম্পানি এক্সপেডিয়া। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি শহর স্থান পেলেও ইউরোপের কোনো শহর এতে জায়গা পায়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তালিকায় এমন সব শহর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে হোটেলে এক রাত থাকার গড় খরচ ১৫০ ডলারের কম। অর্থাৎ সীমিত বাজেটেও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে এসব গন্তব্যে।

আন্তর্জাতিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিলের উপকূলীয় শহর সালভেদর। আফ্রো-ব্রাজিলীয় সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহর তার সোনালি বালুর সৈকত, রঙিন স্থাপত্য এবং বারোক গির্জায় ঘেরা ঐতিহাসিক পুরনো শহরের জন্য বিখ্যাত।
লাতিন আমেরিকার আরও দুটি শহরও তালিকায় রয়েছে। কলম্বিয়ার রাজধানী ও ব্রাজিলের বৃহত্তম নগরী সাও পাওলো। মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা ও মেরিদা শহরও শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে।
গুয়াদালাহারা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর হওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি আয়োজক নগরী। আর মেরিদা মায়া সভ্যতা ও ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের মিশ্রণে অনন্য।
এশিয়ার দিক থেকেও কয়েকটি জনপ্রিয় শহর তালিকায় রয়েছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, মালয়েশিয়ার কুয়ালা লামপুর এবং ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি— সবগুলোই তাদের প্রাণবন্ত নাইটলাইফ এবং সস্তা স্ট্রিট ফুডের জন্য পরিচিত।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে কানাডার এডমনটন, যাকে ‘ফেস্টিভ্যাল সিটি’ বলা হয়, এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন নগরী সান্তো ডমিঙ্গো।
বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের তুলনায় তুলনামূলক কম আলোচিত এসব শহর ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে। একই সঙ্গে কম খরচে স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার ও দর্শনীয় স্থান উপভোগ করার সুযোগও তৈরি করে।
ফলে ২০২৬ সালে বাজেট ভ্রমণকারীদের কাছে ইউরোপ নয়, বরং এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার শহরগুলোই আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।