নিউজ ডেস্ক, বাংলার কলম্বাস
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপকে ট্রিপঅ্যাডভাইজরের ২০২৬ সালের ট্রাভেলার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসে বিশ্বের সেরা হানিমুন গন্তব্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পূর্ব আফ্রিকার মরিশাস গত বছর প্রথম স্থানে থাকলেও এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। বালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি নবদম্পতিদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
বালি যেন একটি জীবন্ত পোস্টকার্ড, যা ইন্দোনেশিয়ার স্বর্গরাজ্য হিসেবেও পরিচিত। ট্রিপঅ্যাডভাইজরের মতে, দ্বীপটি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, সুন্দর সৈকত, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং প্রাচীন মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। নবদম্পতিরা বিশেষ করে ব্যক্তিগত পুল ভিলা, আইকনিক সৈকতের সূর্যাস্ত এবং আরামদায়ক স্পা অভিজ্ঞতার জন্য বালিতে ভিড় করেন।

এই তালিকায় মালদ্বীপ তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এর পর রয়েছে সেন্ট লুসিয়া এবং গালে। এছাড়া ভিয়েতনামের হুয়ে শহর, যা রাজকীয় সমাধির জন্য পরিচিত, তালিকায় স্থান পেয়েছে। ট্রিপঅ্যাডভাইজরের ট্রাভেলার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের ফলাফল ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের দেওয়া পর্যালোচনার গুণমান ও পরিমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পুরস্কার ভ্রমণকারীদের পছন্দের গন্তব্যগুলোকে তুলে ধরে। ফলে মানুষ নতুন ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারে এবং বিশ্বের সেরা অভিজ্ঞতাগুলো আবিষ্কার করার সুযোগ পায়।
ভিয়েতনামের ফু কোয়ক দ্বীপকে বালির একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ভ্রমণ সাইট ‘এস্কেপ’ প্রকাশিত “বালির সেরা বিকল্প” তালিকায় ফু কোয়ককে একটি আকর্ষণীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এয়ারএশিয়া ২০ মার্চ থেকে বালির ডেনপাসার এবং ভিয়েতনামের দা নাং শহরের মধ্যে নতুন একটি আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে যাচ্ছে। এটি এয়ারলাইনের সপ্তম আন্তর্জাতিক পরিষেবা হবে। এই উদ্যোগ পর্যটকদের জন্য নতুন ভ্রমণ সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিতর্কিত ব্রিটিশ পর্ন তারকা বনি ব্লুকে বালি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একজন অভিবাসন কর্মকর্তা জানান, ট্রাফিক আইন ভঙ্গের একটি ছোট জরিমানা পাওয়ার ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এছাড়া থাইল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় দ্বীপ ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১২ লাখ পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শীর্ষ বিমান পরিবহন কেন্দ্র হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে থাইল্যান্ড।

পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, বালি ও ফু কোয়ক—উভয়ই দ্রুত জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। বালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নবদম্পতিদের জন্য এটিকে আদর্শ হানিমুন গন্তব্যে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে ফু কোয়ক দ্বীপ তুলনামূলক কম খরচ, চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার জন্য পর্যটকদের কাছে প্রশংসা পাচ্ছে। অনেক ভ্রমণকারীর কাছে এটি বালির বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিমান রুট ও বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে এই গন্তব্যগুলোতে পর্যটনের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতার পথও খুলে দেবে।