নিউজ ডেস্ক | বাংলার কলম্বাস
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিল এক বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ও আতিথেয়তা খাত এখন নারী ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক মঞ্চ। ২০২৬ সালের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই খাতে নারীদের কর্মসংস্থান শুধু সংখ্যায়ই বাড়েনি, নেতৃত্বের আসনেও তাদের উপস্থিতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যেখানে নারী কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে সেই প্রবৃদ্ধির গতি আরও বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাতে নিয়োজিত মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশই নারী।
বিশেষ করে ডিজিটাল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিস্তারের ফলে গত দুই বছরে কয়েক মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যার বড় অংশই নারীরা দখল করেছেন।
২০১৯ সালে আতিথেয়তা খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য বলছে, এই হার এখন ৫৫ শতাংশেরও বেশি। হোটেলের উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পর্যটন প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্যোগ পর্যন্ত নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকায় রয়েছেন।
সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সিম্পসন ২০২৬ সালের বিশেষ বার্তায় বলেন,
“ভ্রমণ ও পর্যটন খাত শুধু নারীদের চাকরি দিচ্ছে না, বরং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তুলছে। আমরা গর্বিত যে এই খাত বিশ্বের বৃহত্তম নারী নিয়োগদাতা হিসেবে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২৬ সালে আমাদের লক্ষ্য হলো পর্যটনকে আরও স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা, যেখানে নারীরাই হবে অগ্রপথিক।”
বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে নারীরা পর্যটন খাতে নতুন এক বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। হোমস্টে ব্যবসা, স্থানীয় গাইড সেবা এবং ভ্রমণভিত্তিক ভিডিও ব্লগ তৈরির মাধ্যমে অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। সংস্থাটির গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেকসই পর্যটন নিয়ে কাজ করা নতুন উদ্যোগগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ এখন নারীদের দ্বারা পরিচালিত।
আমেরিকা এবং এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে অন্যান্য অনেক খাতের গড় কর্মসংস্থানের হারকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় পর্যটনকে কেন্দ্র করে নারীদের উচ্চ বেতনের চাকরিতে প্রবেশের হার গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পর্যটন খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে নারীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। লিঙ্গসমতা, সমান মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে পর্যটন শিল্প বিশ্ব অর্থনীতির উন্নয়নে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।
নারীরা এখন শুধু পর্যটন সেবা প্রদান করছেন না, একক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড গড়ছেন। আজকের এই দিনে বাংলার কলম্বাস সেই সব সাহসী নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, যারা পৃথিবীকে দেখার এবং নতুনভাবে দেখানোর সাহস রাখেন।