বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিদেশি পর্যটকের এই পতন শুধু পর্যটন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং হোটেল, বিমান পরিবহন, খুচরা ব্যবসা এবং বিনোদন শিল্পসহ পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। বৈশ্বিক পর্যটনের সামগ্রিক প্রবণতা যেখানে ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এই পতন বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রাথমিক পরিসংখ্যানেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। ওই মাসে বিদেশি পর্যটক আগমন আরও প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ পর্যটক যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ থেকে সরে গেছেন।
বিদেশি পর্যটকেরা সাধারণত স্থানীয় পর্যটকদের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করেন। বিশেষ করে বড় শহরগুলোর অর্থনীতিতে তাদের অবদান বড়। যেমন মিয়ামি, নিউইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেস শহরগুলোর হোটেল, রেস্তোরাঁ, কেনাকাটা ও বিনোদন খাত অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রক্রিয়া আরও কঠোর হয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া জটিল হওয়া, বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই এবং ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক পর্যটককে নিরুৎসাহিত করছে।
এই প্রবণতা বিশেষভাবে দেখা যাচ্ছে কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে। ২০২৬ সালের শুরুতে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। ২০২৫ সালেও কানাডিয়ান পর্যটকের সংখ্যা ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল।
ইউরোপ থেকেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। জার্মানি এবং ফ্রান্স থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী ভ্রমণ বুকিং কমেছে। এমনকি যুক্তরাজ্য থেকেও পর্যটকের আগ্রহ আগের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে।
পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, ভ্রমণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আস্থা ও স্বাচ্ছন্দ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো গন্তব্যে প্রবেশের অভিজ্ঞতা জটিল মনে হলে অনেক পর্যটক সহজ ও উন্মুক্ত বিকল্প বেছে নেন।
ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ভ্রমণকারী ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যের দিকে ঝুঁকছেন। সহজ যাতায়াত, উন্মুক্ত সীমান্ত এবং ইতিবাচক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনের মতো বৈশ্বিক শিল্পে একটি দেশের ভাবমূর্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো দেশকে কঠিন বা অনাকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে দেখা শুরু হয়, তবে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পর্যটন আয়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক প্রবাহের ওপর পড়তে পারে।