সিরাজগঞ্জের ভ্রমণপ্রেমী মানুষের কাছে দ্রুত আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে ভ্রমণ সংগঠন সিরাজগঞ্জ ট্রাভেলার্স গ্রুপ এসটিজি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনটি তাদের সফল পথচলার এক বছর পূর্ণ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ পর্যটক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ভ্রমণ আয়োজক হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে তারা।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পরিকল্পিত আয়োজন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংগঠনটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে কর্পোরেট ভ্রমণ, শিক্ষা সফর এবং দলভিত্তিক ভ্রমণের সফল আয়োজন করেছে এসটিজি।
বিশেষ করে সাজেক, সিলেট, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সুন্দরবনের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ আয়োজন করে অনেক পর্যটককে নিরাপদ ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা দিয়েছে সংগঠনটির টিম।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ভ্রমণে ধারাবাহিক সাফল্য
সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, আন্তরিক সেবা এবং তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত ভ্রমণের কারণে সিরাজগঞ্জের কয়েকটি শিক্ষা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের ভ্রমণের দায়িত্ব দিয়েছে এসটিজিকে।
সিরাজগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত বছর সিলেট ভ্রমণ সফলভাবে আয়োজনের পর এবার তাদের রাঙামাটি ভ্রমণের দায়িত্বও পেয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিষ্ঠানটির চিফ ইন্সট্রাক্টর নুরুল আহসান বলেন, “গত বছর এসটিজির মাধ্যমে আমাদের সিলেট ভ্রমণ খুব ভালো হয়েছিল। তাদের ওপর আস্থা রেখেই আগামী ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাঙামাটি ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
অন্যদিকে ইসলামিয়া সরকারি কলেজ সিরাজগঞ্জের শিক্ষকদের নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণ এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাঙামাটি শিক্ষা সফরও সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এসটিজি।
কলেজটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভির বলেন, “এসটিজির মাধ্যমে রাঙামাটি ভ্রমণ আমার জীবনের অন্যতম ভালো অভিজ্ঞতা। এত কম খরচে সিরাজগঞ্জ থেকে এমন সুন্দর ভ্রমণ সম্ভব, এটা সত্যিই চমৎকার।”
কর্পোরেট ভ্রমণেও আস্থা
শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, কর্পোরেট পর্যায়েও এসটিজি আস্থা অর্জন করেছে। স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রায় একশ সদস্যকে নিয়ে সাজেক ও রাজশাহীর সাফিনা পার্কে সফল ভ্রমণ আয়োজন করে সংগঠনটি। এ অভিজ্ঞতায় সন্তুষ্ট হয়ে এবার ঈদের পর প্রায় তিনশ সদস্যকে নিয়ে বান্দরবান ভ্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সিইও এ জেড কাওছার বলেন, “আমাদের প্রায় ১০০ সদস্যের সাজেক ভ্রমণ খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছে এসটিজি। পরিবহন, রিসোর্ট এবং খাবারের ব্যবস্থা ছিল প্রশংসনীয়। আগামী ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রায় ৫০০ সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবান ভ্রমণের পরিকল্পনাও তাদের মাধ্যমেই করার চিন্তা করছি।”
শিক্ষার্থীদের কাছেও জনপ্রিয়
শিক্ষা সফর আয়োজনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে এসটিজি। মাওলানা ভাসানী ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কুয়াকাটা ও সুন্দরবন ভ্রমণের আয়োজন করে সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী নাইম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমার দেখা সেরা ট্যুর গ্রুপ এসটিজি।”
এ ছাড়া নিউ মডেল পলিটেকনিক এবং পাইকপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রাজশাহী, সুন্দরবন ও সিলেট ভ্রমণের আয়োজন করেছে তারা। এসব ভ্রমণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে।
পাইকপাড়া মডেল হাই স্কুলের শিক্ষক আল মামুন বলেন, “এসটিজির মাধ্যমে অল্প খরচে রাজশাহী ভ্রমণ আমাদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। পরে সিলেট ভ্রমণও সফল হয়েছে। সামনে নতুন কোনো গন্তব্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছি।”
নিরাপদ ভ্রমণই প্রধান লক্ষ্য
এসটিজির উদ্যোক্তারা বলছেন, তাদের লক্ষ্য শুধু ভ্রমণ আয়োজন নয়। নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রকৃতি, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও তাদের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং আনন্দময় ভ্রমণের আয়োজনের মাধ্যমে অল্প সময়েই অংশগ্রহণকারীদের আস্থা অর্জন করেছে সংগঠনটি। ভ্রমণকারীদের সন্তুষ্টিই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
ভ্রমণসেবাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এসটিজি। তাদের লক্ষ্য সিরাজগঞ্জকে পর্যটনসেবা আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
এসটিজির অন্যতম উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন সোহাগ বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের যে ভালোবাসা ও আস্থা আমরা পেয়েছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষকে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের আরও কাছে নিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”