বাংলার কলম্বাস ডেস্ক
ছুটি কাটাতে যাওয়া ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় ছয়টি শব্দ মুখে না আনার পরামর্শ দিয়েছেন ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব শব্দ ব্যবহারের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ভ্রমণবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ওল্টার্স ওয়ার্ল্ড এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ওয়োল্টার্স পেশাগত কারণে ৮০টির বেশি দেশ ঘুরেছেন। এখন তিনি বিশ্বভ্রমণে বের হওয়া মানুষদের জন্য নানা পরামর্শ শেয়ার করেন।

সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে মার্ক বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার সময় ভ্রমণকারীদের সব ধরনের রসিকতা এড়িয়ে চলা উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে চিরদিন থাকব, আমি আপনার দেশকে ভালোবাসি’— এ ধরনের কথা একটা দেশে ঢোকার সময় বলা যাবে না। পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ‘রসিকতা করা’ ঠিক নয়। বরং ভ্রমণকারীদের উচিত ভদ্রভাবে উত্তর দেওয়া।

ডেইলি এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছে। 
মার্ক বলেন, “আমার ক্ষেত্রে, তারা যখন জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি এখানে কী করতে যাচ্ছেন?’ তখন বলি, আমি অনেক টাকা খরচ করে ব্রিটিশ অর্থনীতিকে সহায়তা করতে যাচ্ছি।”

হ্যাঁ, এটি হয়তো ভালো একটি মজার কথা, কিন্তু এর চেয়ে ভালো হবে এটা বলা যে, ‘আমি পরিবার নিয়ে ভ্রমণে এসেছি’। 
মনে রাখতে হবে, পাসপোর্ট ও সীমান্ত কর্মকর্তারা হাস্যরস করার সুযোগ পান না, তারা এখানে দায়িত্ব পালন করতে আসেন।
মার্ক ব্যাখ্যা করেন, সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তারা সেখানে থাকেন, যেন ভুল মানুষ দেশে প্রবেশ করতে না পারে। তাই তাদের সামনে বাড়তি মজা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। শান্ত ও ভদ্র আচরণ করলে নিজের ‘জীবন সহজ’ করা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তা চৌকিতে কিছু শব্দ কখনোই উচ্চারণ করা উচিত নয়। তার ভাষায়, “কখনোই ‘বোমা’ শব্দটি বলবেন না, ‘মানব পাচার’ বলবেন না, মাদক নিয়ে রসিকতা করবেন না, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থাকার বিষয়েও মজা করবেন না—যেমন, ‘আমি এখানে চিরদিন থাকতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলোর কোনোটিই বলবেন না। কারণ এগুলো এমন শব্দ, যেগুলো শুনলেই তারা ভাবতে বাধ্য হন, ‘একটু দাঁড়ান, আমাদের কিছু করতে হবে।’ তারা আপনার রসিকতা বুঝলেও তাদের কিছু করার থাকে না।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও পরামর্শ দেন, নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট হাতে রাখুন।

তিনি বলেন, অনেক সময় তিনি দেখেছেন ভ্রমণকারীরা কাগজপত্র গুছিয়ে চলে যাচ্ছেন, পরে আবার পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ থেকে তাদের ডেকে আনা হচ্ছে।
তার ভাষায়, “তারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন ঘোষণার আগেই যদি আপনি কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেন, তাহলে তারা ভাবতে পারেন, ‘এই ব্যক্তি নার্ভাস, দ্রুত সরে যেতে চাইছে।’ এতে আরও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন। তাই তারা বিদায় না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”
ভ্রমণকারীদের আরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আগে থেকেই থাকার জায়গা ঠিক করে রাখুন।

তিনি বলেন, কোনো আবাসন নির্ধারণ ছাড়া পৌঁছালে প্রায়ই ‘অতিরিক্ত প্রশ্ন’ তৈরি হয় এবং মানবপাচার নিয়ে সন্দেহও জাগতে পারে।
মার্ক বলেন, “আমি আমার ভ্রমণসূচি নিজেকেই পাঠিয়ে রাখি, যেন বলতে পারি, ‘আমরা এই ঠিকানায় ম্যারিয়ট আমস্টারডামে থাকছি।’ এতে বিষয়টি অনেক সহজ হয়। কারণ এটি তাদের সাধারণ প্রশ্নগুলোর একটি। তাই অস্পষ্ট উত্তর না দেওয়াই ভালো।”