কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উপকূলে ভেসে আসা বিশালাকৃতির একটি মৃত তিমি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি করেছে। কয়েক দিন আগে সৈকতে ভেসে আসা তিমিটি বালুচরে পুঁতে রাখা হলেও জোয়ারের পানিতে বালু সরে গিয়ে এর কিছু অংশ আবার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ফলে পচনধরা দেহ থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গন্ধের কারণে সৈকতের ওই এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও বিরক্তির মুখে পড়ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেকের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের পশ্চিম উপকূলে প্রায় দেড় টন ওজনের তিমিটি ভেসে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কৌতূহলী মানুষ সেখানে ভিড় করেন। অনেকেই তিমিটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

পরদিন রোববার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে বালুচরে গর্ত খুঁড়ে তিমিটিকে পুঁতে রাখা হয়। তবে জোয়ারের পানিতে বালু সরে যাওয়ায় এর কিছু অংশ আবার দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এতে পচন থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, কুতুবদিয়ার উপকূলে এত বড় মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনা অতীতে খুব একটা শোনা যায়নি। তিমিটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তার মতে, আঘাত, রোগ বা বিষক্রিয়া সহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা দরকার।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হয়েছেন। একই সময়ে সহকারী কমিশনার ভূমি ছুটিতে রয়েছেন। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বন বিভাগের কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এখনো চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, কুতুবদিয়ার সৈকতে মৃত তিমি ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে। তবে তিমিটির মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে সরাসরি কর্মকর্তা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি দেখার চেষ্টা চলছে।