ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি সামনে রেখে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতির শেষ মুহূর্ত চলছে। পাহাড়, নদী ও সাগরের অনন্য মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই জনপদে এবারও বড় ধরনের পর্যটক সমাগমের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা, যাতায়াত ও বিনোদন সুবিধা জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘেঁষে অবস্থিত মিরসরাইয়ের পূর্ব পাশে পাহাড় আর ঝরনা, পশ্চিমে সমুদ্রসৈকত এবং উত্তরে নদী মিলে তৈরি হয়েছে এক অনন্য ভৌগোলিক বৈচিত্র্য। ঝরনার কলকল ধারা, লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ, জেলেদের নৌকা আর সবুজ বনানী পর্যটকদের দ্রুত আকৃষ্ট করে।
উপজেলায় উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে মহামায়া লেক, মুহুরী প্রকল্প, খৈয়াছড়া ও নাপিত্তাছড়া ঝরনা, ডোমখালী সমুদ্র সৈকত, শিল্পনগর সৈকত, বাওয়াছড়া লেক ও মেলখুম গিরিপথ। এসব স্পট ঘিরে স্থানীয় পর্যটন শিল্পও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
আরশিনগর ফিউচার পার্কে বিনোদনের সমাহার
জোরারগঞ্জের সোনাপাহাড় এলাকায় প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে রয়েছে কৃত্রিম ঝরনা, বিভিন্ন রাইড, কিডস জোন, রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সুবিধা। রাত্রিযাপনের জন্য আধুনিক কটেজ এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় পরিবারভিত্তিক ভ্রমণে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শিল্পনগর সৈকতে নতুন আকর্ষণ
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘেঁষে নির্মিত সুপার ডাইকের পাশে গড়ে ওঠা সৈকত এখন পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য। বিশেষ করে বসুন্ধরা পয়েন্টে গত কয়েক বছরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ডোমখালী সৈকতে বিস্তৃত সাগরপাড়
সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী থেকে গজারিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই সৈকত জোয়ার-ভাটার দৃশ্য আর খোলা প্রকৃতির জন্য পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
খৈয়াছড়া ঝরনায় প্রকৃতির মায়া
বহু ধাপে নেমে আসা খৈয়াছড়া ঝরনার সৌন্দর্য ভ্রমণপিয়াসীদের মুগ্ধ করে। অনেকেই রাতের বেলায় তাঁবু খাটিয়ে এখানে সময় কাটান, যা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
হিলসডেল ও মধুরিমা রিসোর্টে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী
অলিনগরে অবস্থিত এই পর্যটনকেন্দ্রে রয়েছে হরিণের খামার, নানা প্রজাতির বৃক্ষ ও পাখি। প্রায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপযোগী।
মুহুরীর চরে প্রকৃতির অন্যরূপ
মুহুরী নদীর চর এলাকায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, পাখির আনাগোনা এবং জেলেদের জীবনচিত্র পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
মহামায়া লেকে জল ও পাহাড়ের মিলন
১১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত মহামায়া লেক দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ। এখানে কায়াকিং, নৌভ্রমণ ও ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটক সেবায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।