ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে জয়পুরহাটে পর্যটনের আমেজ ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য আর স্বল্প খরচে ঘোরার সুযোগ মিলিয়ে জেলার কয়েকটি স্পটকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন আকর্ষণ। প্রশাসনের প্রস্তুতি ও স্থানীয় উদ্যোগে এবার পর্যটক বরণে প্রস্তুত নান্দাইল দীঘি, বিলের ঘাট, আশ্রাঙ্গা দীঘি এবং শিশু উদ্যান।
উত্তরবঙ্গের এই জেলায় প্রতিবছরই ঈদের সময় পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বিশেষ করে কালাই উপজেলার নান্দাইল দীঘি বরাবরের মতোই দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশাল জলরাশি ও সবুজে ঘেরা পরিবেশ এই দীঘিকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। কয়েক শ বছরের পুরোনো এই দীঘিকে স্থানীয়রা ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দেখেন। ঈদ উপলক্ষে এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হয়েছে। বসার শেড ও বেঞ্চ সংস্কার করা হয়েছে।
ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা বিলের ঘাট তরুণদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে সূর্যাস্তের সময় নদীর শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের টানে। একই উপজেলার আশ্রাঙ্গা দীঘিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দিন দিন পরিচিতি পাচ্ছে।
অন্যদিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার শিশু উদ্যান পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর একটি নিরাপদ ও বিনোদনসমৃদ্ধ জায়গা হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও খেলার সরঞ্জাম সংস্কার করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে এখানে শিশুদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যার পর সোলার লাইটের মাধ্যমে আলোকসজ্জা রাখা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।
স্থানীয়দের মতে, এসব পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছোট দোকান, খাবারের হোটেল ও নাশতার স্টল গড়ে ওঠায় স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিলের ঘাটে ঘুরতে আসা পর্যটক নাহিদ হাসান সোহান বলেন, শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর জন্য এটি এখন তাদের পছন্দের জায়গা।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটন উন্নয়নই তাদের লক্ষ্য। ঈদ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটনকেন্দ্রে আধুনিক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নত অবকাঠামো ও বিনোদন সুবিধা যুক্ত করা হবে।