নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের জনপ্রিয় নদীঘেঁষা পর্যটন কেন্দ্র চায়নাবাঁধ থ্রি সংলগ্ন যমুনা নদীর পাড়ে স্নিগ্ধ বাতাস আর গোধূলির আলোয় এক অনন্য ইফতার-ভ্রমণ আয়োজন করেছে এসবি রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ১৮ মার্চ বিকেলে আয়োজিত এই মিলনমেলা যেন ভ্রমণ, স্মৃতি আর বন্ধুত্বের এক অপূর্ব সম্মিলন হয়ে ওঠে, যেখানে শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে প্রকৃতির কাছে ফিরে গিয়ে সবাই খুঁজে পান এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ঘরোয়া পরিবেশে আয়োজিত ইফতারে ছিল ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি, প্রাকৃতিক ভাবে প্রস্তুতকৃত শরবত, তাজা ফলসহ নানা সাধারণ খাবার, তবে অংশগ্রহণকারীদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হয়ে ওঠে একসাথে কাটানো সময়।

মাহমুদপুর রিক্রিয়েশন ক্লাবের নিউটন তালুকদার বলেন, "প্রতিবছর এই দিনের জন্য তারা অপেক্ষা করেন এবং যমুনার পাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করা তাদের কাছে এক বিশেষ অনুভূতি।"

বাংলার নবাব উইভিং ফ্যাক্টরির মাফিজুল ইসলাম জানান, "এটি কেবল ইফতার নয়, বরং ভ্রমণ ও স্মৃতিচারণের এক চমৎকার সমন্বয়, যা বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করে।"

ইনতেফার রাশেদুল ইসলাম পান্না অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "দূরে কোথাও না গিয়েও কাছের এই স্থানেই অল্প খরচে এত আনন্দ পাওয়া সম্ভব, যা সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা।"

ইফতারের পর মুক্ত বাতাসে আড্ডা যেন আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মিঠুন বলেন, "এই সময়টাতেই তারা পুরোনো দিনের গল্পে মেতে ওঠেন এবং একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করেন।"

সুপ্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং এর আশিক ইসলাম বাপ্পি জানান, "কাজের সুবাদে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সুযোগ হলেও যমুনার পাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো এই সময়ের মানসিক শান্তি তিনি অন্য কোথাও পান না।"

ইভান মটরস এর আব্দুল মোমিন বলেন, "আগে অনেকবার এখানে এলেও বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করে এই জায়গাটিকে নতুনভাবে উপভোগ করার আনন্দই আলাদা।"

অ্যাপোলো সার্জিক্যাল এর আল আমিন জানান, "প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে এই আয়োজন ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এবং সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল ইফতার শেষে প্রয়াত বন্ধু রাজিবের পরিবারের জন্য সহায়তার উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে পারা।"

সজীব গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন এর সজীব ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "এমন পরিবেশে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই তাদের জীবনের অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।"

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আমিনুল ইসলাম তুষার বলেন, "ভবিষ্যতে আরও বেশি বন্ধুদের এই ধরনের আয়োজনে সম্পৃক্ত করা গেলে বন্ধনের পরিধি আরও বাড়বে।"

এদিকে স্বাদের বাড়ি লাইভ বেকারির আলমগীর হোসাইন জানান, "অনেকেই এই পর্যটন কেন্দ্রে ইফতার করতে আসেন, তবে সবারই উচিত ইফতারের পর জায়গাটি পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা।"

খান ফুড প্রোডাক্টস এর মুন্না খান বলেন, "স্থানীয় মসজিদের খাদেমের আন্তরিক সহযোগিতা এই আয়োজনকে আরও সফল করে তুলেছে।"

জাহিদ টেলিকম এর জাহিদুল ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "যখন আড্ডা ও ভ্রমণ একসাথে হয়, তখন সেটি শুধু আনন্দই দেয় না, বরং মানসিক তৃপ্তিও এনে দেয়।"

আফ্রিদি বিল্ডার্স এর আরিফুল ইসলাম কিছুটা আক্ষেপ করে জানান, "ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে অনেক বন্ধু উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে এই বন্ধন অটুট থাকবে এবং ভবিষ্যতেও তারা এভাবে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।"

মা ডাউল মিলের আব্দুল লতিফ মোবাইল ফোনে জানান "খুব ইচ্ছা থাকলেও কর্মব্যস্ততার কারণে যোগ দিতে পারিনি যা আমাকে খুব ব্যথিত করেছে।"

পুরো আয়োজনজুড়ে ভ্রমণের পাশাপাশি ছিল মানবিকতার ছোঁয়া, যা এই মিলনমেলাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। একইসঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন স্পটের পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতা প্রকাশ করেন, যা স্থানীয় পর্যটনকে আরও টেকসই করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গোধূলির শেষ আলো ম্লান হয়ে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার পাড়ে এই আড্ডা যেন আরও গভীর আবেগে ভরে ওঠে। কাছের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বন্ধুদের এমন মিলনমেলা প্রমাণ করে, ভ্রমণের আসল আনন্দ দূরে নয়—বরং নিজের মাটির কাছেই লুকিয়ে থাকে।

এই ধরনের আয়োজন স্থানীয় পর্যটনকে যেমন উৎসাহিত করে, তেমনি মানুষের মাঝে বন্ধন, মানবিকতা ও আনন্দের নতুন দিগন্তও উন্মোচন করে—যা ভবিষ্যতে সিরাজগঞ্জের ভ্রমণ সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।