সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রতারণা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ঝামেলার মধ্যে থাকা যাত্রীদের লক্ষ্য করে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ভুয়া এয়ারলাইন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে যাত্রীদের সহায়তার ভান করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই প্রতারণা কৌশল সম্পর্কে সচেতন না হলে অনেকেই শত শত পাউন্ড হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

মূল সমস্যা হলো—যখন কোনো যাত্রী ফ্লাইট বিলম্ব, লাগেজ হারানো বা টিকিট সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন, তখন প্রতারকরা সেই সুযোগ নেয়। তারা আসল এয়ারলাইনের মতো দেখতে নকল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

যেমন ইজি জেট বা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অনেক সময় এই অ্যাকাউন্টগুলোর নাম আসল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে খুব মিল থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হন।

এই প্রতারণার সূচনা হয় মূলত কোভিড-পরবর্তী সময়ে, যখন ভ্রমণ খাত পুনরায় চালু হয় এবং বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেমন ফ্লাইট বাতিল, লাগেজ হারানো ইত্যাদি।

যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে শুরু করলে প্রতারকরা সেটিকে সুযোগ হিসেবে নেন। তারা দাবি করেন যে সমস্যার সমাধান বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তবে তার জন্য কিছু অর্থ স্থানান্তর করতে হবে।

প্রতারণার কৌশলটি বেশ সুপরিকল্পিত। প্রথমে তারা ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে যাত্রীকে ব্যক্তিগত বার্তা (ডিএম) দিতে বলে। এরপর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ওয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। নিজেকে কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তারা যাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ও বুকিং ডিটেইলস নেয়। এরপর তারা একটি বৈধ অর্থ লেনদেন অ্যাপ, যেমন ওয়ার্ল্ড রেমিট ডাউনলোড করতে বলে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো, তারা একটি কোড প্রবেশ করাতে বলে, যা দেখতে ক্ষতিপূরণের কোড মনে হলেও আসলে তা অর্থ পাঠানোর নির্দেশ। উদাহরণস্বরূপ, কেনিয়ান শিলিং ব্যবহার করে এমন একটি কোড দিলে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অর্থ কেটে নেওয়া হয়। অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপও সৃষ্টি করা হয়, যাতে ভুক্তভোগী ভেবে দেখার সুযোগ না পান।

এই ধরনের প্রতারণা এড়াতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমত, যে কোনো অ্যাকাউন্টের সত্যতা যাচাই করতে হবে—অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে সাধারণত ভেরিফিকেশন চিহ্ন থাকে এবং অনুসারীর সংখ্যা বেশি হয়।

দ্বিতীয়ত, অচেনা অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত তথ্য বা ফোন নম্বর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তৃতীয়ত, সন্দেহজনক ফোনকল এলে সঙ্গে সঙ্গে কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের প্রস্তাব পেলেই তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে এই ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদ রাখতে।