ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়াতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছুটির ভিড় সামাল দিতে এবার সৈকতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হচ্ছে, যারা পর্যটকদের সার্বিক সহায়তায় কাজ করবেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। ঈদ উপলক্ষে বাড়তি পর্যটক চাপ সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের ট্যুরিজম মোটেল শৈবাল-এর সাগরিকা রেস্টুরেন্ট বলরুমে একটি ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তা, দিকনির্দেশনা এবং জরুরি সহায়তা প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত সচিব নুজহাত ইয়াসমিন। তিনি বলেন, অতীতে সৈকতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, পর্যটন পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক সৈকতের তিনটি পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মূল কাজ হবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তথ্য সহায়তা দেওয়া এবং যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সাড়া দেওয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাতেমা রহিম বীণা, পর্যটন পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক, উপসচিব সাইফুল ইসলাম মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলম, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক মো. বোরহান উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এছাড়া বিভিন্ন পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পর্যটন পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

নুজহাত ইয়াসমিন আরও জানান, পর্যটকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যেমন স্থানীয় যানবাহন চালকদের হয়রানি, ছিনতাই এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।